ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দের অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঘোষিত রায়ে আদালত তাকে প্রতিটি মামলায় ৫ বছর করে সাজা এবং অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অর্থ অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত সময় কারান্তরালে থাকতে হবে।
রায়ে শেখ রেহানার সন্তানদেরও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক এবং ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিককে একটি করে মামলায় ৭ বছর করে কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে, শেখ রেহানার আরেক মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে দুই মামলায় মোট ৪ বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের নামে আলাদা দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীতে নিজস্ব বাড়ি বা ফ্ল্যাট থাকার তথ্য গোপন করে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ নেন। শেখ হাসিনা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রভাব খাটিয়ে রাজউক ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ম লঙ্ঘনে বাধ্য করেছিলেন।
এই দুই মামলায় মোট ২২ জন ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সাবেক সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার এবং রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর তরিকুল ইসলাম রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আমরা অপরাধ প্রমাণ করতে পেরেছি, যার প্রতিফলন এই রায়ে ঘটেছে।”
উল্লেখ্য, এর আগেও পূর্বাচল প্লট সংক্রান্ত আরও চারটি মামলায় শেখ হাসিনাকে ২৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। আজকের রায়ের মাধ্যমে তার মোট সাজার মেয়াদ আরও বৃদ্ধি পেল।
প্রদা/ডিও







