যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইরানের চাবাহার বন্দরে অর্থায়ন বন্ধ করলো ভারত। ২০২৬ অর্থবছরের দেশটির কেন্দ্রীয় বাজেটে চাবাহার প্রকল্পের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। গত কয়েক বছর ধরে এই প্রকল্পে বার্ষিক ১০০ কোটি রুপি করে বরাদ্দ দিচ্ছিল নয়াদিল্লি।
ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত চাবাহার বন্দরটি ভারতের জন্য ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত তুরুপের তাস। পাকিস্তানকে পাশ কাটিয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে দুই দশক আগে এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে চীনের অর্থায়নে পাকিস্তানে তৈরি হওয়া গোয়াদার বন্দরের পাল্টা ভারসাম্য হিসেবে চাবাহারকে গড়ে তুলতে চেয়েছিল নয়াদিল্লি। ২০০৩ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ীর আমলে শুরু হওয়া এই স্বপ্ন এখন মার্কিন কঠোর নীতি ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে ফিকে হয়ে আসছে।
চাবাহার প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যদিও ভারত এই প্রকল্পের জন্য বিশেষ ছাড় আদায় করতে সক্ষম হয়েছিল, তবে সেই মেয়াদের সময়সীমা আগামী ২৬ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে। এর ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বজায় রাখা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি নয়াদিল্লিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ভারতের এই পিছুটান কেবল একটি বন্দর প্রকল্পের সমাপ্তি নয়, বরং মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ভারতের ছিল, তাতেও বড় এক ধাক্কা। চাবাহারকে ঘিরে ইরানের যে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলার স্বপ্ন ছিল এবং ভারতের যে পাকিস্তানকে এড়িয়ে যাওয়ার বিকল্প রুট তৈরির পরিকল্পনা ছিল—উভয়ই এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। মূলত বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখতেই ভারত তার এই দীর্ঘদিনের অগ্রাধিকার প্রকল্প থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রদা/ডিও






