ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক সহায়তার মাপে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ গত অর্থবছরের তুলনায় ৭৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ কোটি রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের সংশোধিত বাজেটে ছিল প্রায় ৩৫ কোটি রুপি। তবে শুরুতে ১২০ কোটি রুপির প্রস্তাব থাকলেও চূড়ান্ত বাজেটে তা অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে।
ভারতের বৈদেশিক সহায়তার তালিকায় বরাবরের মতো শীর্ষে রয়েছে ভুটান। দেশটির জন্য ২ হাজার ২৮৮ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, তালেবান শাসিত আফগানিস্তানেও ভারতের অনুদান ৫০ শতাংশ বেড়ে ১৫০ কোটি রুপি হয়েছে। শ্রীলঙ্কা ও সেশেলসের জন্য বরাদ্দ বাড়লেও মালদ্বীপ, নেপাল ও মরিশাসের ক্ষেত্রে এই সহায়তার অংক কমিয়ে আনা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে ইরানের চাবাহার বন্দরের ক্ষেত্রে। গত অর্থবছরে ৪০০ কোটি রুপি বরাদ্দ থাকলেও এবারের বাজেটে কৌশলগত এই বন্দরের জন্য কোনো অনুদান রাখা হয়নি। মূলত ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক চাপের কারণে ভারত এই পিছুটান দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, নতুন অর্থবছরে ভারত বিদেশি সরকারগুলোকে মোট ৮ হাজার ৭৯২ কোটি রুপি ঋণ ও অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব করেছে, যা গত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ২৭ শতাংশ কম। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ভারত তার প্রতিবেশী ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন কৌশলগত ও আর্থিক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।







