চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা নিয়ে উচ্চ আদালতের রায় এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে এর দায়িত্ব হস্তান্তরের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
গত (২৯ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়, যা শুক্রবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত বৃহস্পতিবার অফিস চলাকালে এনসিটি সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বন্দরের কিছু কর্মচারী ভবন চত্বরে মিছিল করেন এবং আদালতের রায় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সভা-মিছিল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়া সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা অনুযায়ী সুস্পষ্ট পেশাগত অসদাচরণ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পরিপন্থী। ভবিষ্যতে এই নির্দেশ অমান্য করলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে আদালতের রায় এবং এনসিটি বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারীরা। এর প্রতিবাদে আগামী শনিবার ও রোববার বন্দর এলাকায় ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের সব অপারেশনাল কার্যক্রম এবং রোববার একই সময়ে প্রশাসনিক ও অপারেশনাল উভয় কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
এর আগে বন্দরের কারশেড ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমিক নেতাদের মতে, পর্যাপ্ত দেশীয় সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও লাভজনক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া জাতীয় স্বার্থবিরোধী এবং অযৌক্তিক। এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি বন্দর ভবন অভিমুখে কালো পতাকা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শ্রমিকেরা। বন্দর কর্তৃপক্ষের কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও শ্রমিক সংগঠনগুলো তাদের দাবিতে অনড় থাকায় বর্তমানে বন্দর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
প্রদা/ডিও







