ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের মূল্যে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দেশটির ইতিহাসে মুদ্রার সর্বোচ্চ দরপতন রেকর্ড করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা বিষয়ক ওয়েবসাইট বোনবাস্টের তথ্যমতে, মুক্ত বাজারে বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১৬ লাখ ২০ হাজার ৫০০ ইরানি রিয়াল লেনদেন হচ্ছে। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান প্রায় দেড় লাখ কমেছে, যা দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর চরম আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের এই তীব্র অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার পেছনে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক—উভয় সংকটই অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। গত মাসের শেষদিকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে গত ৭ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন করে দেয় ইরান সরকার। ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় ইস্তাম্বুল, বাগদাদ ও আফগান সীমান্তের মতো আঞ্চলিক বাজারগুলোতে ইরানি মুদ্রার প্রকৃত বিনিময় হার যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তথ্যের এই শূন্যতা মুদ্রাবাজারে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে রিয়ালের এই নজিরবিহীন পতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতার ঘোষণা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের অভিমুখে তাদের একটি বিশাল নৌবহর অগ্রসর হচ্ছে। ওয়াশিংটনের এমন হুঁশিয়ারির পর বিশ্ববাজারে ইরানের জ্বালানি খাত নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সমুদ্রপথে নৌ-অবরোধ (Naval Blockade) তৈরি করতে পারে। এমনকি দেশটির তেল ও গ্যাসক্ষেত্রগুলোকে লক্ষ্য করে সামরিক হামলার আশঙ্কাও জোরালো হচ্ছে। যুদ্ধের এই দামামা ইরানি রিয়ালকে ইতিহাসের সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে।
প্রদা/ডিও







