মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সম্ভাব্য হামলায় নিজেদের মাটি বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব।
মঙ্গলবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ফোনালাপে রিয়াদের এই কঠোর ও নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ-এর বরাতে জানা যায়, যুবরাজ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সংঘাতের বদলে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন।
এই ফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্টও ইতিবাচক সাড়া দিয়ে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় থেকে যুদ্ধ এড়াতে যেকোনো সহযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় তেহরান অংশ নিতে প্রস্তুত। সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তের আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতও অভিন্ন অবস্থান ব্যক্ত করে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা নিজেদের জলসীমা বা আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। আঞ্চলিক এই দেশগুলোর এমন অবস্থান ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে।
অন্যদিকে, ইরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়াতে আটলান্টিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ও সামরিক আর্মাডা ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনের বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিলেও আশা প্রকাশ করেছেন যে, শেষ পর্যন্ত হয়তো সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন হবে না।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, সরকার বিরোধী বিক্ষোভ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে এসেছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এটিই ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়ন, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। যদিও ইরান সরকার বরাবরই এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে দাবি করে আসছে যে, বাইরের শক্তির মদদপুষ্ট ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজদের’ কারণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এই জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধের ঝুঁকি হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রদা/ডিও





