অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনায় খাদের কিনারায় পৌঁছানো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গত (২৭ জানুয়ারি) মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় ধুঁকতে থাকা ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬টিকে অবসায়ন বা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), জিএসপি ফাইন্যান্স এবং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য আরও তিন মাসের বিশেষ সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপি ঋণ আদায়ের মাধ্যমে বড় অঙ্কের তহবিল সংগ্রহ করতে পারলে লিকুইডেশন বা অবসায়ন প্রক্রিয়া থেকে রক্ষা পেতে পারে। তবে এই তিন মাস কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তাদের কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে না।
বর্তমানে দেশে কার্যরত ৩৫টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০টিকেই সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তথ্য অনুযায়ী, এই ২০টি প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ ২৫ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রায় ৮৩ শতাংশ বা ২১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকাই এখন খেলাপি। এই বিপুল পরিমাণ ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পদের মূল্য মাত্র ৬ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে, তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা বাকি ১৫টি প্রতিষ্ঠান গত বছর প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যা আর্থিক খাতের চরম বৈপরীত্য ফুটিয়ে তুলছে।
৯ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক চিত্র
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থতা, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং মূলধন ঘাটতি—এই তিন সূচকে ৯টি প্রতিষ্ঠানই ‘অব্যবহারযোগ্য’ অবস্থায় রয়েছে।
এফএএস ফাইন্যান্স: মোট ঋণের ৯৯.৯৩ শতাংশই খেলাপি। পুঞ্জীভূত লোকসান ১ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা;
ফারইস্ট ফাইন্যান্স: ৯৮ শতাংশ ঋণ খেলাপি, লোকসান ১ হাজার ১৭ কোটি টাকা;
বিআইএফসি: খেলাপি ঋণ ৯৭.৩০ শতাংশ, লোকসান ১ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা;
ইন্টারন্যাশনাল লিজিং: খেলাপি ঋণ ৩ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা (৯৬ শতাংশ), যার প্রায় পুরোটাই আদায় অযোগ্য। লোকসান ৪ হাজার ২১৯ কোটি টাকা।
পিপলস লিজিং: খেলাপি ঋণ ৯৫ শতাংশ, লোকসান ৪ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা;
আভিভা ফাইন্যান্স: খেলাপি ঋণ ৮৩ শতাংশ, লোকসান ৩ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা;
প্রাইম ফাইন্যান্স: ৭৮ শতাংশ ঋণ খেলাপি, লোকসান ৩৫১ কোটি টাকা;
প্রিমিয়ার লিজিং: খেলাপি ঋণ ৭৫ শতাংশ, লোকসান ৯৪১ কোটি টাকা;
জিএসপি ফাইন্যান্স: খেলাপি ঋণ ৫৯ শতাংশ, লোকসান ৩৩৯ কোটি টাকা।
প্রদা/ডিও






