চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে কিংবা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) কমানোর ঘোষণা আসতে পারে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে এবং শিগগিরই এ-সংক্রান্ত একটি ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে তার এ বিষয়ে সরাসরি ও অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর থেকে বাণিজ্যিক বাধা কমাতে বাস্তবিক অর্থেই আগ্রহী এবং এই প্রক্রিয়াটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
লুৎফে সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও অশুল্কনীতিগুলোর বেশ মিল রয়েছে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের যে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসা একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে কাজ করছে। যদিও শুল্ক ঠিক কতটা কমানো হবে সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক চূড়ান্ত হয়নি, তবে ওয়াশিংটনের আন্তরিকতা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে খুব দ্রুতই একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। এটি কার্যকর হলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়বে এবং রপ্তানি খাত শক্তিশালী হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের বিষয়ে তিনি জানান, দাভোসে ইইউ কমিশনারদের সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্তবাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ নিয়ে প্রাথমিক আলাপ হয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া কিছুটা ধীরগতির হওয়ায় এবং তারা বর্তমানে ভারত ও ভিয়েতনামের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়ায় বাংলাদেশের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। লুৎফে সিদ্দিকী বিষয়টিকে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নয় বলে আশ্বস্ত করেন এবং জানান যে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যেতে হবে। এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি পরবর্তী সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় নোট ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশ রেখে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন যাতে ভবিষ্যতে এই আলোচনাগুলো আরও সহজে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
প্রদাা/ডিও





