“কাস্টমসের চাকরি মানেই কোটিপতি”—জনশ্রুতি থাকলেও এবার তার বাস্তব প্রমাণ মিলেছে রাজস্ব কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের ক্ষেত্রে। মাত্র এক যুগের চাকরিতেই শতকোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কর্মরত এই কর্মকর্তা। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে গ্রামের বাড়ি পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে তার বিলাসিতার ছাপ। নিজ ও স্বজনদের নামে গড়েছেন একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট এবং বাগানবাড়ি।
অনুসন্ধানে উঠে আসা সম্পদের পাহাড়: দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, ১০ম গ্রেডের একজন কর্মকর্তার সাকুল্যে মাসিক বেতন ৩৮,৬৪০ টাকা। সেই হিসেবে ১১ বছরের চাকরিতে তার মোট বেতন দাঁড়ায় সর্বোচ্চ ৩০-৩৫ লাখ টাকা। অথচ আলতাফ হোসেন যাত্রাবাড়ীর দনিয়ার (৩০০/১, পূর্ব রসুলপুর) একটি আলিশান ফ্ল্যাটে বসবাস করেন। এছাড়া রসুলপুরের মাস্টার বাড়িতে নির্মাণাধীন একটি ১১ তলা ভবনের ৯ম তলায় তার আরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জে তিনি গড়ে তুলেছেন রাজকীয় প্রাসাদ। এলাকায় তিনি এখন ‘টাকার কুমির’ হিসেবে পরিচিত।
দুর্নীতির আঁতুড়ঘর যখন শুল্ক গোয়েন্দা: ২০১৪ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন ১৪ ব্যাচের এই কর্মকর্তা। তার উত্থান মূলত শুরু হয় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলামের সময়ে। গোয়েন্দা প্রধানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ‘ক্যাডার কর্মকর্তাদেরও নিয়ন্ত্রক’ হিসেবে পরিচিতি পান আলতাফ। শাহজালাল বিমানবন্দরের এয়ার ফ্রেইট ইউনিটে নিয়ম ভেঙে ছয় মাসের স্থলে এক বছরেরও বেশি সময় পদায়ন থেকে হাতিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম কাস্টমসেও বহাল দাপট: বর্তমানে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কর্মরত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, লাখ টাকা ঘুষ ছাড়া তিনি কোনো ফাইলে সই করেন না। ফাইল আটকে সিএন্ডএফ এজেন্ট ও ব্যবসায়ীদের হয়রানি করাই তার নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। অতি সম্প্রতি দুর্নীতির অভিযোগে কাস্টম হাউসের নতুন কমিশনার তাকে বদলি করলেও এনবিআরের উচ্চপর্যায়ে তদবির চালিয়ে সেটি ঠেকানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
আন্দোলনে অর্থায়ন ও ক্ষমতার দাপট: অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে যে, সম্প্রতি এনবিআর-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনে নেপথ্যে থেকে কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন আলতাফ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তার সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল বলে ভিডিও ফুটেজে প্রমাণ মিলেছে। এনবিআর-এর একজন সাবেক প্রভাবশালী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সুপারিশে চাকরি হওয়ায় কাউকেই তোয়াক্কা করেন না তিনি।
ঔদ্ধত্যপূর্ণ স্বীকারোক্তি: দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চাইলে আলতাফ হোসেন ফোনে বাংলাবার্তাকে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যের সাথে বলেন, “আমার একাধিক ফ্ল্যাট থাকলে সমস্যা কোথায়? দুদক ডাকলে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করবো, এনবিআরকেও টাকা দিয়ে কিনবো। এনবিআরের সব কর্মকর্তাই দুর্নীতিবাজ, আমি করলে সমস্যা কোথায়?”
এমন পরিস্থিতিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে জরুরি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।
প্রদা/ডিও






