ফেসবুকে বিভিন্ন ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মনিরুল ইসলাম নামে এক প্রতারকের ৭৬ লাখ ৩২ হাজার টাকার স্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে মহানগর দায়রা আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এই বাজেয়াপ্তের আদেশ দেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে, মনিরুল ইসলাম ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে টার্গেট করতেন বিভিন্ন পেশার বয়স্ক ব্যক্তিদের। নিজেকে কখনও চিকিৎসক, কলেজের অধ্যক্ষ, আবার কখনও প্রধানমন্ত্রীর পিএস হিসেবে পরিচয় দিয়ে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতেন। বিশ্বাসের গভীরতা বাড়াতে তিনি নারী কণ্ঠে কথা বলে ভুক্তভোগীদের বিভ্রান্ত করতেন।
এক পর্যায়ে বাবা-মায়ের অসুস্থতার দোহাই দিয়ে আবেগপ্রবণ করে মোটা অঙ্কের টাকা ধার নিতেন। টাকা পাওয়ার পরই তিনি ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যেতেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মনিরুল নিজের ব্যাংক হিসাব ছাড়াও অপরিচিত ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করতেন। এই প্রতারণার অর্থ দিয়ে তিনি রাজধানীর ডেমরা থানাধীন আমুলিয়া মডেল টাউন এলাকায় ৭.৫ শতাংশ জমি এবং দারুসসালাম থানার বড় সায়েকে ২ হাজার ১৫০ বর্গফুটের একটি সুপরিসর ফ্ল্যাট কেনেন। আদালতের আদেশে এখন এসব সম্পত্তি রাষ্ট্রের মালিকানায় চলে গেছে।
উল্লেখ্য, ফেসবুকে ২৪ লাখ ৭৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বাড্ডা থানায় সিআইডি বাদী হয়ে মনিরুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছিল। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে করা ওই মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়েই তিনি এসব স্থাবর সম্পত্তি গড়েছেন।
দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
প্রদা/ডিও







