বিগত ১৬ বছর ধরে উন্নয়নের ছদ্মবেশে জনগণের অমূল্য সম্পদ নির্বিচারে লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে একটি গোষ্ঠী দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে।
তবে ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও থেমে নেই; দেশে ও বিদেশে বসে তারা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চক্রান্তের জাল বুনছে। দেশবাসীকে এই অশুভ শক্তির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ যেভাবে অতীতে সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছে, আগামী দিনেও তারা ঐক্যবদ্ধভাবে যেকোনো চক্রান্ত নস্যাৎ করে দেবে। মানুষের ভোটাধিকার ও ক্ষমতার চাবিকাঠি জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়াই এই নির্বাচনের মূল লক্ষ্য।
নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম এই জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো সিলেট নগরীতে এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এদিন দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তারেক রহমান জনসভার মঞ্চে পা রাখলে কয়েক লাখ নেতাকর্মীর স্লোগানে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
দীর্ঘ ২১ বছর পর সিলেটে তারেক রহমানের প্রকাশ্য জনসভাকে কেন্দ্র করে জনসমুদ্রের ঢেউ আছড়ে পড়ে আলিয়া মাদরাসা মাঠ ছাপিয়ে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত। এর আগে বুধবার রাতে সিলেটে পৌঁছেই তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন এবং দক্ষিণ সুরমার সিলামে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে এক বিশেষ দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার সকালে তিনি হোটেলের বলরুমে অরাজনৈতিক তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করে নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশার কথা শোনেন এবং এরপরই জনসভাস্থলে যোগ দেন।
জনসভার কাজ শুরু হয় সকাল পৌনে ১১টায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে। শীত উপেক্ষা করে গত বুধবার রাত থেকেই সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে সভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। ব্যানার, ফেস্টুন আর দলীয় পতাকায় সজ্জিত জনসভাস্থলে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই তিল ধারণের জায়গা ছিল না।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিশাল জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। তারেক রহমানের এই সফর ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ও র্যাব কয়েক স্তরের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।
সিলেটের এই সফল জনসভা শেষ করে তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন, পথিমধ্যে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদীতে একাধিক নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।
প্রদা/ডিও






