বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী (ইমিগ্রেন্ট) ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে যারা ভবিষ্যতে ‘পাবলিক চার্জ’—অর্থাৎ সরকারি ভাতা বা কল্যাণমূলক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাদের প্রবেশ ঠেকাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট)।
আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে নেওয়া এই পদক্ষেপকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠোর সিদ্ধান্তগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফক্স নিউজ ডিজিটালের হাতে আসা একটি মেমোতে জানানো হয়, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ও যাচাই-বাছাই পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত কনস্যুলার কর্মকর্তাদের বিদ্যমান আইনের আওতায় আবেদনকারীদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পুনর্মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিতাদেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বলবৎ থাকবে।
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাসগুলোতে পাঠানো এক কূটনৈতিক বার্তায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ‘পাবলিক চার্জ’ সংক্রান্ত বিধান আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেয় স্টেট ডিপার্টমেন্ট। নির্দেশনায় বলা হয়, যেসব আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন বলে মনে হবে, তাদের ভিসা না দেওয়ার কথা।
এই মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর স্বাস্থ্যগত অবস্থা, বয়স, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, আর্থিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজনের সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। বয়স্ক, অতিরিক্ত ওজনের আবেদনকারী কিংবা যারা অতীতে সরকারি নগদ সহায়তা গ্রহণ করেছেন, তারাও ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে পারেন।
এ বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে—এমন সম্ভাব্য অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণা করতে পররাষ্ট্র দপ্তর তার দীর্ঘদিনের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। তিনি আরও জানান, ৭৫টি দেশ থেকে অভিবাসন স্থগিত থাকবে যতদিন না অভিবাসন প্রক্রিয়ার পদ্ধতিগুলো পুনর্মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে যাতায়াত কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। এর প্রভাব পড়তে পারে কাজ, বসবাস ও ভবিষ্যৎ ভ্রমণ পরিকল্পনায়। এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্ত এলো, যখন প্রায় পাঁচ মাস পর যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে এবং বিপুলসংখ্যক বিদেশি দর্শকের আগমনের প্রত্যাশা করা হচ্ছিল।
এর আগে ওয়াশিংটনে এক আফগান নাগরিকের গুলিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্য আহত হওয়ার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন আরও কঠোর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছিল। পাশাপাশি মিনেসোটায় ব্যাপক নির্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সোমালি নাগরিকদের জন্য নির্বাসন সুরক্ষা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর ভিসা যাচাই ব্যবস্থাগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্রের হলেও, ট্রাম্প প্রশাসন আগেও সেখানে আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। গত বছর ভিসা কর্মকর্তাদের আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব শনাক্ত করা যায়।
ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত থাকা দেশগুলোর তালিকা
এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানসহ মোট ৭৫টি দেশ।
প্রদা/ডিও






