৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চট্টগ্রামের বহু এলাকায় দৃশ্যমানভাবে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলালেও, বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার বাস্তবতা যেন ভিন্ন। এখানকার অস্থিরতার নেপথ্যে উঠে আসছে একটি নাম—৩নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা মোহাম্মদ ইসমাইল।
স্থানীয়দের ভাষায়, ইসমাইল এখন আর শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী নন; তিনি বায়েজিদের ‘অদৃশ্য আতঙ্ক’।
গোপন তৎপরতা, প্রকাশ্য নীরবতা:
পাঠানপাড়া এলাকার নাজির আলী মাতব্বরের বাড়ির মৃত জহির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল ৩নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এ-ইউনিটের সহ-সভাপতি। অতীতে তিনি দলীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও ইসমাইল এলাকা ছাড়েননি। বরং পরিস্থিতি থিতু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন নতুন কৌশলে। দিনের আলোয় নিরব, রাত নামলেই শুরু হয় তৎপরতা।
সূত্র মতে, রাতের আঁধারে তার ডেরায় বসছে একের পর এক গোপন বৈঠক। এসব বৈঠকে কারা অংশ নিচ্ছে, কী আলোচনা হচ্ছে—তা নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই বৈঠকগুলোর মূল লক্ষ্য বায়েজিদ এলাকায় পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরি করা।
ক্যাডার বাহিনী ও নাশকতার অভিযোগ:
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ইসমাইলের অধীনে গড়ে উঠেছে একটি নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। স্থানীয় কিছু কিশোর ও যুবককে অর্থ ও আশ্রয়ের মাধ্যমে তিনি নিয়ন্ত্রণে রাখছেন বলে অভিযোগ। এদের দিয়েই এলাকায় ভীতি সৃষ্টি, ছোটখাটো নাশকতা এবং গুজব ছড়ানোর কাজ চালানো হচ্ছে।
একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “রাতে হঠাৎ মোটরসাইকেল মহড়া, অচেনা লোকজনের আনাগোনা—সব মিলিয়ে এলাকায় আবার ভয় ফিরে এসেছে। সবাই জানে, এর পেছনে কারা আছে, কিন্তু মুখ খুলতে সাহস পায় না।”
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই অভিযোগগুলো নতুন নয়, গোপনও নয়। তবু রহস্যজনকভাবে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ এখনো মোহাম্মদ ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
প্রশ্ন উঠছে— তাহলে কি পুলিশের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই? নাকি তথ্য থাকার পরও কোনো অদৃশ্য শক্তি ইসমাইলকে আড়াল করে রাখছে? আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় বসে কীভাবে একজন রাজনৈতিক নেতা এমন তৎপরতা চালাতে পারেন? এই নীরবতা জনমনে আরও আতঙ্ক ও সন্দেহ তৈরি করছে।
সময়ের দাবি: দৃশ্যমান পদক্ষেপ
বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অভিযোগের ঊর্ধ্বে উঠে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। মোহাম্মদ ইসমাইলের গোপন বৈঠক, ক্যাডার বাহিনী এবং নাশকতার অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
নচেৎ, এই ‘অদৃশ্য আতঙ্ক’ ধীরে ধীরে দৃশ্যমান সহিংসতায় রূপ নিলে তার দায় এড়াতে পারবে না কেউই—প্রশাসনও নয়।
প্রদা/ডিও






