মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে কক্সবাজারের টেকনাফে এক শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। নিহত আফনান আক্তার (১০) টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে। সে তেচ্ছিব্রিজ হাজী মো. হোছাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা টেকনাফ–কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে বিজিবি, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন।
নিহত শিশুর চাচা ও স্থানীয় শিক্ষক আলী আকবর সাজ্জাদ জানান, রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আফনান আক্তার বাড়ির উঠানে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। এ সময় সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে তীব্র গোলাগুলি চলছিল। হঠাৎ একটি মর্টার শেল এসে আফনানের মাথায় আঘাত হানে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ শুরু করে এবং টেকনাফ–কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী, আরাকান আর্মি ও দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত ড্রোন হামলা, বোমা বিস্ফোরণ ও টানা গোলাগুলির শব্দে সীমান্তবর্তী এলাকা আতঙ্কে রয়েছে।
রোববার সকালেও হোয়াইক্যং সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। এ সময় ছোড়া গুলি এসে পড়েছে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তবর্তী গ্রাম লম্বাবিলে। একের পর এক বিস্ফোরণে সীমান্ত এলাকার ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। রাতভর আতঙ্কে ঘুমাতে পারেনি স্থানীয় বাসিন্দারা। নারী ও শিশুরা চরম ভয়ে দিন কাটাচ্ছে। সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, গত তিন দিন ধরে সীমান্তের ওপারে দিন-রাত গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণ চলছে। ছোড়া গুলি এপারে এসে মানুষের চিংড়ি ঘের ও চাষের জমিতে পড়ছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির বিষয়টি বিজিবির নজরে রয়েছে। সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম জানান, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও প্রশাসন কাজ করছে।
প্রদা/ডিও






