জাতিসংঘের এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি বছরে বৈশ্বিক অর্থনীতি ২.৭ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় সামান্য কম। যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কহার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে এই ধীরগতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘের অর্থনীতিবিদদের ধারণা, ২০২৭ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়ে ২.৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে এ হার এখনও কোভিড-১৯ মহামারির আগের সময়ের (২০১০–২০১৯) গড় ৩.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, অর্থনৈতিক, ভূরাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত টানাপোড়েন একসঙ্গে বিশ্ব ব্যবস্থাকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে, যার ফলে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক ঝুঁকি বাড়ছে।
তবে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বৃদ্ধির চাপ সত্ত্বেও বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে। শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির কিছুটা নিম্নগতি প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করলেও অর্থনীতির ভেতরের কাঠামোগত দুর্বলতা এখনো রয়ে গেছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক সিচুয়েশন অ্যান্ড প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপ, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ২.৮ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে কমে ১.৯ শতাংশে নেমে আসে। শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ থাকলেও আবাসন ও বাণিজ্যিক নির্মাণ খাতে দুর্বলতা অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। চলতি বছরে দেশটির প্রবৃদ্ধি সামান্য বেড়ে ২ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ২.২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
জাপানের অর্থনীতি চলতি বছরে ০.৯ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ১ শতাংশ হারে বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা ২০২৫ সালের সম্ভাব্য ১.২ শতাংশের চেয়ে কম। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক ও নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে জাপানের গাড়ি রপ্তানি খাত চাপের মুখে পড়তে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ১.৫ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ১.৪ শতাংশে নামতে পারে। তবে ২০২৭ সালে তা আবার বাড়িয়ে ১.৬ শতাংশে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মতো বড় উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারবে।
বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ৩.৯ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে ৪.৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৫ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। এই দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া ও তানজানিয়ার অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স তুলনামূলকভাবে ভালো হবে বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ।
পূর্ব এশিয়ায় চলতি বছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৪.৪ শতাংশে দাঁড়াতে পারে, যা আগের বছরের ৪.৯ শতাংশের চেয়ে কম। চীনের অর্থনীতি ২০২৬ সালে ৪.৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৪.৫ শতাংশ হারে বাড়তে পারে, যা ২০২৫ সালের ৪.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির নিচে থাকবে।
আফ্রিকায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীরে ধীরে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে—২০২৫ সালের ৩.৯ শতাংশ থেকে ২০২৭ সালে তা ৪.১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে উচ্চ ঋণভার ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি এই অঞ্চলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি ২০২৫ সালের ২.৪ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে সামান্য কমে ২.৩ শতাংশে নামলেও ২০২৭ সালে আবার বেড়ে ২.৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রদা/ডিও






