যুক্তরাষ্ট্র ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—যার প্রায় অর্ধেকই জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে জলবায়ু, শ্রম, অভিবাসন ও সামাজিক নীতিনির্ধারণ সংক্রান্ত বহু সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বন্ধ হতে যাচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস এসব সংস্থাকে এমন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে, যেগুলোকে তারা বৈচিত্র্য ও ব্যয় কমানোর এজেন্ডার অংশ হিসেবে দেখে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এসব সংস্থা ও জোটের মধ্যে কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছিল।
হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত ফ্যাক্ট শিট বা তথ্যপত্র অনুযায়ী, এই সংস্থাগুলোর মধ্যে ৩১টি জাতিসংঘ অনুমোদিত সংস্থা এবং ৩৫টি জাতিসংঘের বাইরের সংস্থা যেগুলো ‘যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বা সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে’ কাজ করে।
সব সরকারি বিভাগ এবং সংস্থাগুলোকে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ এই সংস্থাগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যাহার করার প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচেভেলে জানিয়েছে, জলবায়ু বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও বিশ্বের শীর্ষ বৈজ্ঞানিক সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে—যখন ট্রাম্প দেশের ভেতরে জীবাশ্ম জ্বালানির পক্ষে আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছেন।
ট্রাম্প বারবার জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘প্রতারণা’ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে ‘স্ক্যাম’ বলে মন্তব্য করেছেন।
যেসব সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে—আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্যানেল (আইপিসিসি), জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি), আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থা (আইরেনা), আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও উন্নয়ন ফোরাম, ইউএন উইমেন, ইউএন পপুলেশন ফান্ড, ইউএন এনার্জি, ইউএন ওয়াটার এবং ইউএন ইউনিভার্সিটিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতিসংঘ সংস্থা ও প্ল্যাটফর্ম।
ডয়েচেভেলে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও বৈশ্বিক সহযোগিতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জলবায়ু, মানবাধিকার ও উন্নয়ন খাতে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে।
প্রদা/ডিও






