রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি, ব্যবসাবাণিজ্যে মন্দা, তলানিতে বাজেট বাস্তবায়ন, মূল্যস্ফীতির উচ্চ চাপ, কর্মসংস্থানে চরম অচলাবস্থা, রপ্তানি খাতে নেই কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি, দেশিবিদেশি বিনিয়োগে ভাটা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতায় দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। সারা দেশে কমেছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। ব্যাংক খাতে সৃষ্টি হয়েছে ২৫ বছরের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ। এদিকে গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করলেও খুব একটা কাজ হয়নি। এর প্রায় দেড় বছর পর জাতীয় নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় সামনের দিনগুলোতে অর্থনীতিতে অস্থিরতা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনীতিতে যে অনিশ্চয়তা ছিল সেটা কিছুটা কেটেছে কিন্তু অস্থিরতা কমানো সম্ভব হয়নি। বরং আস্থাহীনতার কারণে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আসছে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে। সে পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে টাকার সরবরাহ অনেকটাই বাড়বে। তবে এ সময়েও বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন আসবে না। ফলে কর্মসংস্থানের ভাটা কাটারও তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং টাকার প্রবাহ বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। নির্বাচনি ডামাডোলের কারণে বাজেট বাস্তবায়নের গতিও আরও কমার আশঙ্কা করছে বিশ্লেষকরা।
পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারনম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। মানুষের আয় রোজগার কমে গেছে। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। বিনিয়োগ বাড়াতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা পুরো মাত্রায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। বরং এ খাতে গ্রাহকদের আস্থাহীনতা আরও বেড়েছে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবাহ বাড়াতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। সর্বশেষ অক্টোবর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে মূল্যস্ফীতি এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে এনেছে, তবুও তা বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এখনো অনেক বেশি। এর ফলে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশে দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৬ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। কেননা কর্মসংস্থানের চাকা একেবারেই আটকে আছে। মানুষের আয়রোজগার কমে গেছে। বেড়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়।
জানা গেছে, দেশের সব শ্রেণির ব্যবসাবাণিজ্যে বিরাজ করছে চরম অনিশ্চয়তা। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতাও বেড়েছে। একইভাবে বাড়ছে ব্যাংক খাতের অনিশ্চয়তাও। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় একটি ইন্ডিকেটর হলো- মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি। এই মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ঋণপত্র নিষ্পত্তি কমেছে ১১ শতাংশ। ফলে নতুন করে কোনো কারখানা তো হচ্ছেই না বরং পুরোনো অসংখ্য কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সেগুলো পুনরায় চালু করা আদৌ সম্ভব হবে কি না- তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।
প্রদা/ডিও







