সরকারের কাছে দীর্ঘ বিলম্বে পাওনা অর্থ না পাওয়ায় হিমশিম খাচ্ছে দেশের বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী (আইপিপি) প্রতিষ্ঠানগুলো। বিল পরিশোধে ৬–৯ মাস পর্যন্ত দেরি হওয়ায় তাদের জ্বালানি ক্রয়, ঋণ পরিশোধ ও পরিচালন ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এজন্য খাতটির নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে আইপিপিগুলো।
বিপিডিবির কাছে ৭০টির বেশি দেশি–বিদেশি আইপিপির বকেয়া এখন ২৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি—এর মধ্যে ১৭ হাজার কোটি টাকা দেশীয় কোম্পানির পাওনা।
খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বিপিডিবির এই বিশাল বকেয়া পরিশোধের অক্ষমতার পেছনে বেশ কিছু দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ বা সমস্যা দায়ী।
বিশেষ করে আমদানি করা জ্বালানির কারণে চড়া উৎপাদন খরচ বিপিডিবির ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে। সংস্থাটি ভর্তুকির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যার পরিমাণ এখন বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এটি সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপরও বাড়তি চাপ ফেলছে।
উৎপাদন খরচ ও খুচরা বিদ্যুৎ মূল্যের (ট্যারিফ) মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান বিশাল আর্থিক ঘাটতি তৈরি করেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ছিল প্রায় ১২ টাকা, বিপরীতে গড় বিক্রয় মূল্য ছিল ৮.৫০ টাকা।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ঘাটতির কারণে জ্বালানি আমদানিতে দেরি হচ্ছে। এতে বিপিডিবির যথাসময়ে বিল পরিশোধের সক্ষমতা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া অতিরিক্ত স্থাপিত সক্ষমতার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুরোপুরি ব্যবহার না হলেও বিপিডিবিকে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হচ্ছে, যা তাদের দেনার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ইউনাইটেড পাওয়ার, কনফিডেন্স পাওয়ার, সামিট পাওয়ার ও ডরিন পাওয়ারসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বিপিডিবিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, বিলম্বের কারণে তারা গভীর আর্থিক সংকটে পড়েছে। ব্যাংকগুলো আস্থা হারাচ্ছে, ঋণ পরিশোধ ও এলসি খোলা কঠিন হয়ে পড়ছে। সামিট পাওয়ারের প্রাপ্য ৪,৯২৪ কোটি, ইউনাইটেড পাওয়ারের ৩,০৭৮ কোটি, ডরিনের ১,৩৭৮ কোটি ও কনফিডেন্স পাওয়ারের প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।
বিপিডিবির কর্মকর্তারা বলেন, অর্থ সংকটের কারণে বিল পরিশোধে দেরি হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তহবিলের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করা হয়েছে। তবে বিলম্ব অব্যাহত থাকলে সুদসহ মোট বকেয়া ৪০ হাজার কোটি টাকার ওপর যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিপিডিবির সংকটের মূল কারণ উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, ভর্তুকির চাপ, ট্যারিফ ঘাটতি, জ্বালানি আমদানিতে দেরি এবং অতিরিক্ত স্থাপিত সক্ষমতার কারণে ক্যাপাসিটি পেমেন্টের বোঝা।
বর্তমানে দেশের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৭,৯০৫ মেগাওয়াট, যার ৪০ শতাংশ সরবরাহ করছে বেসরকারি খাতের ৭০টির বেশি আইপিপি।
প্রদা/ডিও







