চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া টার্মিনাল ও পানগাও টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়া এবং নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে বন্দরের দুই প্রবেশ পথে প্রতীকী অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে শ্রমিক ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতাকর্মীরা।
শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) ব্যানারে কয়েকশ শ্রমিক নগরীর পোর্ট কানেকটিং রোডের বড়পোল এলাকা ও টোল রোড এলাকায় বুধবার সকাল ১০ থেকে এই কর্মসূচি পালন করছে। দুপুর ১ টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্কপের নেতারা।
তবে, অবরোধ কর্মসূচি বলা হলেও বন্দরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দু’টিতে যান চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটিয়ে সড়কে একপাশে ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে সমাবেশ করতে দেখা যায় শ্রমিকদের।
অন্যদিকে, কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদ্স্যদের সতর্ক অবস্থান থাকতে দেখা যায়।
সমাবেশে নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা। এই বন্দর দিয়ে দেশের আমদানি-রপ্তানি বানিজ্যের ৯৩ শতাংশ হয়ে থাকে। যেসব দেশের এরকম একাধিক বন্দর আছে তারা বন্দর বিদেশি কোম্পানিকে পরিচালনার দায়িত্ব দিলেও তেমন কোন প্রভাব পড়ে না। কিন্তু, বাংলাদেশের বন্দর এই একটিই। এই বন্দর বিদেশিদের হাতে চলে গেলে পুরো দেশের অর্থনীতি জিম্মি হয়ে পড়বে।
স্কপ নেতা এস কে খোদা তোতন বলেন, “চট্টগ্রাম বন্দর তার সক্ষমতার প্রায় দেড়গুণ পন্য খালাস করছে। গত বছর লক্ষমাত্রার চাইতে বেশি আয় করায় শ্রমিকদের ১ লাখ টাকা করে দিয়েছে। তাই লাভজনক এই বন্দর কেন বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে হবে?”
আরেক নেতা ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, ‘আমরা গত ছয় মাস ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছি। সরকার আমাদের কোনো কথাই শুনছে না। গত রোববার বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি দায়সারা বৈঠক করে আমাদের জানিয়েছে এটা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত তাদের কিছু করার নাই।’
তিনি বলেন, আমাদের আজকের কর্মসূচি প্রতীকী। আমরা অবরোধ করতে চাইলে সকাল থেকেই করতাম। আমরা সরকারকে একটা বার্তা দিতে চাই। এনসিটি ইজারার প্রক্রিয়া বাতিল না করলে আমরা হরতালের মত কঠোর কর্মসূচি দিতে আধ্য হবো।
সকাল পৌনে ১১টায় রিপোর্ট লেখার সময় অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন শ্রমিক নেতারা।
প্রদা/ডিও







