বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), লালদিয়ার চর ও পানগাঁও টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে মশাল মিছিল ও গণসমাবেশ করেছে ‘বন্দর রক্ষা ও করিডোর বিরোধী আন্দোলন, চট্টগ্রাম’।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরের আমতল মোড়ে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক জাবেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন শ্রমিক নেতা ফজলুল কবির মিন্টু, ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি টিকলু কুমার দে, যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সহ-সভাপতি রুপম কান্তি ধর, সাংস্কৃতিক সংগঠক শিমুল সেন, শ্রমিক নেতা আবু বকর সিদ্দিকী প্রমুখ।
তাঁরা বলেন, গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাসকের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিনটি কাজ করার কথা ছিল। বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। কিন্তু গত ১৫ মাসে দেখা গেল, সরকার পুরো উল্টোপথে হাঁটছে। পতিত সরকারের মতো তারাও জনমতের কোনো তোয়াক্কা করছে না। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। সেখানে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ঘাঁটি গাড়তে চায়। সেই ঘাঁটি গাড়ার অন্যতম পদক্ষেপ বন্দর ইজারা দেওয়া। এই বন্দর ইজারা দেওয়ার এখতিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের নেই।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে আমরা বলতে চাই, চট্টগ্রাম বন্দর এদেশের জনগণের সম্পদ। জাতীয় সম্পদ নিয়ে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের খেলা বন্ধ করুন। এনসিটি নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কিংবা কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো চুক্তি করা যাবে না। বন্দরের নিজস্ব শ্রমিক-কর্মচারী দিয়ে এনসিটি পরিচালনা করতে হবে। লালদিয়ার চর ও পানগাঁও নিয়ে করা চুক্তি বাতিল করুন। আপনারা যারা এদেশের সম্পদ নিয়ে চক্রান্তে মেতেছেন, আপনাদের জনগণ জাতীয় স্বার্থবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে রাখছে। একদিন আপনাদের আইনের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে। জনমত অগ্রাহ্য করবেন না। অন্যথায় চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মতো জনতা রাজপথে নেমে তাদের সম্পদ রক্ষা করবে।
বক্তারা বুধবার (২৬ নভেম্বর) স্কপের ডাকা অবরোধ কর্মসূচিতে সর্বস্তরের দেশপ্রেমিক জনতাকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এরপরও সরকারের বোধোদয় না হলে দাবি আদায়ে হরতাল, অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সমাবেশ শেষে একটি মশাল মিছিল নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
প্রদা/ডিও







