চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় সহজে জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য তিন হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বানানো হয়েছে পাইপলাইন। গত ১৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধনও করা হয়। কিন্তু চালুর এক মাসের মধ্যে হিসাবে গড়মিল, তেল সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম আর প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে পাইপলাইনে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাধ্য হয়ে আবারও নৌপথে বেশি খরচে জ্বালানি পরিবহন করতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, চলতি নভেম্বর মাসেই চালু হতে পারে এই প্রকল্প।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য মূলত নৌপথ ব্যবহৃত হয়। এতে খরচ যেমন বাড়ে, অন্যদিকে সময়ও বেশি লাগে। এজন্য পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০১৮ সালের অক্টোবরে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। পরে প্রথম দফায় ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়।
শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল দুই হাজার ৮৬১ কোটি টাকা। পরে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) তথ্য বলছে, পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে সরবরাহ করা হবে ২৭ লাখ টন ডিজেল। এতে প্রায় ২৩৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
এই পাইপলাইনকে দুইটি অংশে ভাগ করা হয়েছে। একটি অংশ চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা থেকে ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ হয়ে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো পর্যন্ত। আরেকটি অংশ গোদনাইল থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত। গত ২২ জুন পাইপলাইনে পরীক্ষামূলকভাবে তেল পরিবহন শুরু হয়৷ ১৬ আগস্ট এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়৷ এর পরেই বাধে বিপত্তি।
যেভাবে পাইপলাইনে ত্রুটি ধরা পড়ে
পাইপলাইনটি চালুর পর চট্টগ্রাম থেকে দুই কোটি ৫৩ লাখ আট হাজার ৬৩ লিটার ডিজেল কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নিয়ে যায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানি। তবে পথেই কমে যায় তিন লাখ ৭৫ হাজার ৩৬৮ লিটার তেল। যার হিসাব মেলেনি এখনও। এর মধ্যে দুই লাখ ৬২ হাজার ৮০৪ লিটার ডিজেল প্যাকিং হিসেবে পাইপলাইনে রয়ে গেছে বলে দায় স্বীকার করেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তৃপক্ষ। অবশিষ্ট এক লাখ ১২ হাজার ৫৬৪ লিটার ডিজেলের হিসাব এখনও মেলাতে পারেনি যমুনা অয়েল। রহস্য উদঘাটনে গঠন করা হয়েছে চারটি পৃথক তদন্ত কমিটি।

তবে বিপিসি কর্মকর্তারা বলছেন, তেল পরিবহনের পর তা চুরি হয়েছে কি না, সেটি দেখার জন্য পৃথক চারটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি সেগুলো খতিয়ে দেখছে। অন্যদিকে, প্রযুক্তিগত কিছু ত্রুটির কারণে মূলত তেল সরবরাহ বন্ধ ছিল। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ফের পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহন শুরু করতে পারবেন তারা।
প্রদা/ডিও







