শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৭টা ১৭ মিনিটে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর নিরাপত্তায় ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি লরিতে করে আনা জ্বালানির গাড়িবহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এসে পৌঁছায়।
নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে রাশিয়া থেকে আরও সাতটি চালানে ইউরেনিয়াম আসার কথা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি কর্পোরেশন ‘রোসাটম’ জানিয়েছে, তারা ডিসেম্বরের মধ্যেই জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ বাংলানিউজকে জানান, ঢাকা থেকে আসা ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো যানজট ছাড়া ভালোভাবে যেতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাতে পারে, সেজন্য পাবনা জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সড়কে বিশেষ নিরাপত্তাবলয় রেখেছিল। সড়কে যানজটের সৃষ্টি না হয়, সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত পাবনা-নাটোর-কুষ্টিয়া মহাসড়ক দিয়ে ছোট-বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ইউরেনিয়াম পৌঁছানোর পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে পারমাণবিক চুল্লিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ নিউক্লিয়ার চেইন রিঅ্যাকশন ও চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
প্রথম পর্যায়ে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর আরও একটি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়িয়ে ৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। এ পর্যায়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।
ডিসেম্বরের মধ্যেই রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে; তবে চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ভর করবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া এবং অনুমোদনের ওপর।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভৌত পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা শেষে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পাওয়ার স্টার্ট-আপ বা সি-স্টেজের কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেয় বায়েরা। এ ধাপের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা শুরু হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটি চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং পারমাণবিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে। বাণিজ্যিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ বিশ্বের বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হবে।
রূপপুর প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে তা ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি ও অন্যান্য আর্থিক কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।






