মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টা ৪৮ মিনিটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় তিনটি লরিতে করে আনা জ্বালানির গাড়িবহর নাটোর-কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়ক দিয়ে উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার দাশুড়িয়া ট্রাফিক মোড় দিয়ে ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করেছে।
ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো আসার সময় মহাসড়কে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তাবলয় ছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৯টি ফ্লাইটে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বল দেশে আসবে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব চালান বাংলাদেশে পৌঁছাবে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ বাংলানিউজকে এতথ্য নিশ্চিত করে জানান, ঢাকা থেকে আসা ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলো যানজট ছাড়া ভালোভাবে যেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এলাকায় পৌঁছে যেতে পারে, তার জন্য পাবনা জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সড়কে বিশেষ নিরাপত্তাবলয় রেখেছিল। সড়কে যানযটের সৃষ্টি না হয় সেজন্য সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত পাবনা-নাটোর-কুষ্টিয়া মহাসড়ক দিয়ে ছোট-বড় যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ইউরেনিয়াম পৌঁছানোর পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে গত ১১ অক্টোবর সফলভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়। এর আগে গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা ও প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর সফর শেষে বৈঠক করেন।
চলতি সপ্তাহে প্রথম ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘ স্টেজ-সি’ বা ‘ পাওয়ার স্টার্টআপে’ প্রবেশ করে বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএলের) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। পরবর্তী কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে।
উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সে অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আশা করা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি নির্ভর করবে পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার ওপর।







