আন্তর্জাতিক বাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের দাম নিম্নমুখী হলেও দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে এর প্রভাব পড়েনি। উল্টো সরবরাহ ঘাটতির কথা বলে গত দেড় মাসে দুই ধরনের ভোজ্যতেলের দাম মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি প্রাইস ডেটা বা ‘পিংক শিট’ অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন সময়ের তুলনায় জুন-আগস্টে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম তেলের গড় দাম প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে খাতুনগঞ্জে বর্তমানে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) সয়াবিন তেল প্রায় ৭ হাজার ৫০০ টাকা, পাম তেল ৬ হাজার ৬০০ টাকা এবং সুপার পাম তেল প্রায় ৬ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেড় মাস আগে সয়াবিন তেলের মণ ছিল প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা। একই সময়ে পাম তেলের দামও মণপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২০৮ থেকে ২১০ টাকা, পাম তেল ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকা এবং সুপার পাম তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের সয়াবিন তেল ব্যবসায়ী শাহজালাল বলেন, বাজারে তেলের সরবরাহ তুলনামূলক কম। ডিলাররা তেল সরবরাহ করলেও চাহিদার তুলনায় তা কম হওয়ায় দাম বেড়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এইচএস কোডে ৬৫ হাজার ৯৫৬ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে পাম তেল ৫০ হাজার ৮৯৬ টন এবং সয়াবিন তেল ১৫ হাজার ৬১ টন। অর্থাৎ এ সময়ে সয়াবিন তেলের তুলনায় পাম তেল আমদানি হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৪ গুণ বেশি।
খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক আলা উদ্দীন বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দেশের পাইকারি দামের তুলনায় শুধু টনপ্রতি মূল্য বিবেচনা করলে হবে না। আমদানি থেকে খাতুনগঞ্জ পর্যন্ত পুরো ব্যয় কাঠামো, সরবরাহ পরিস্থিতি ও অন্যান্য খরচ বিবেচনায় নিতে হবে।
এদিকে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সামনে রমজানকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই দাম বৃদ্ধির অজুহাত তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা নজরদারিতে রাখা দরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুফল ভোক্তারা কতটা পাচ্ছেন, সেটিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দাবি জানান তিনি।





