সামিট গ্রুপের বিরুদ্ধে গত দুই বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে বিরোধের জেরে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে সামিট গ্রুপের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামিট পাওয়ার লিমিটেডের ক্ষেত্রে ৩৮৮ কোটি টাকা এবং সামিট গাজীপুর-২-এর ক্ষেত্রে ১৭৬ কোটি টাকার কর-সংক্রান্ত দাবির তথ্য সামনে এসেছে। এ ছাড়া সামিট গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের করসংক্রান্ত হিসাব নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ ও কর-সংক্রান্ত নথির ভিত্তিতে জানা যায়, গত দুই বছরে সামিট গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার কর ফাঁকির বিষয়টি সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজস্ব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
এদিকে কর-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে সামিট গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিয়মিত কর পরিশোধ করে আসছে। নিজেদের হিসাব ও আর্থিক কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক মানের নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়োজিত রয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
সামিট গ্রুপের জনসংযোগ ও গণমাধ্যমবিষয়ক কর্মকর্তার পাঠানো বক্তব্যে বলা হয়, এনবিআরের সঙ্গে কোনো বিষয়ে বিরোধ তৈরি হলে প্রতিষ্ঠানটি তা নিষ্পত্তির জন্য আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছে। আদালতে বিচারাধীন বিষয় হওয়ায় এ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কর ফাঁকির অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। তবে বিপুল অঙ্কের কর-সংক্রান্ত এই বিরোধ দেশের বড় করদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
গত কয়েকমাস আগে দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট ও ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের মাঝে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় স্থানীয় খেটে খাওয়া শ্রমিকদের চরম বঞ্চনার এক চাঞ্চল্যকর চিত্র সামনে এসেছিল। পতেঙ্গার S.A.P.L (সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড) ডিপোতে স্থানীয় দিনমজুরদের বাদ দিয়ে পরিচয় গোপন রেখে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে শত শত রোহিঙ্গা শরণার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। ডিপোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে শ্রমিকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।
দেশের বিদ্যমান শ্রম আইন অনুযায়ী দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের বিনিময়ে একজন শ্রমিকের মজুরি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও, ডিপো কর্তৃপক্ষ এই অসহায় রোহিঙ্গাদের দৈনিক ১২ ঘণ্টা খাটিয়ে মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দিচ্ছে। প্রতিদিন অতিরিক্ত ৪ ঘণ্টা খাটিয়ে মাসিক ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বেতনে বড় অঙ্কের একটি অর্থ ডিপোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও একটি সিন্ডিকেট আত্মসাৎ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় দুই প্রভাবশালী ঠিকাদার ইকবাল ও তাহেরের মাধ্যমে দীর্ঘ ২-৩ বছর যাবৎ এই ডিপোতে রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে কাজ করে যাচ্ছে। খোদ রোহিঙ্গা শ্রমিকরাই আলাপকালে এই দুই ঠিকাদারের নাম উল্লেখ করেছেন।







