লালখান-পতেঙ্গা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে একাধিক উন্নয়ন কাজ চলছে। এসব কাজে নিরাপত্তা ও নির্মাণ মান নিয়ে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন। পর্যন্ত একইসঙ্গে চলছে নালা ও রিটাইনিং ওয়াল, ফ্লাইওভার ও সড়ক নির্মাণের কাজ। অভিযোগ রয়েছে, নিম্ন মানের পাথর ও বালি ও নিম্ন মানের সামগ্রী ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের লালখান-এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ। লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সংশোধিত মোট ব্যয় প্রায় ৪,৩১৫ কোটি থেকে ৪,৩৬৯ কোটি টাকা।
জিইসি-ওয়াসা মোড়ের পয়েন্টে নিরাপত্তা বেষ্টনি ছাড়ািই চলছে নিমার্ণ কাজ। ২য় র্যাম্প- টাইগারপাস-দেওয়াহাট কাজ শেষ হলেও সড়কটি। বন্ধ যান চলাচল। আগ্রাবাদ-থেকে বারেক বিল্ডিং এর র্যাম্পের উঠতি সড়ক একপাশ বন্ধ করে চলছে অন্যপাশে দুইমুখী যান চলাচলের মধ্যে নির্মাণ শ্রমিকদের নিরাপত্তা বেষ্টুনি ও পিলার তৈরির ও গানারের এবং ঢালাইয়ের কাজে শ্রমিকদের নেই কোনো নিজেদের নিরাপত্তা বলাই। অন্যদিকে পথচারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যবস্থা না করেই চলছে কাজ। অন্যদিকে কাস্টমস নিমতলা র্যাম্পের কাজ সম্পন্ন হলেও উঠে আসে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র।
অন্যদিকে ব্যরিস্টার কলেজ থেকে ফ্রি-পোর্ট নামতে র্যাম্পে দেখা গেছে কাজের অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, থ্রি ফোর বা থ্রি ফোর ডাউনের ব্যবহার কথা থাকলেও সেখানে ব্যবহার হচ্ছে ১৪/১৮, ১৮/২২ পাথর। অন্যদিকে ফ্রি-পোর্ট থেকে ব্যরিস্টার কলেজ পর্যন্ত উঠতি র্যাম্পের কাজেরও ধরা পড়ে নানান অনিয়ম। কাঠগড় এলাকায় উঠতি বা নামতি র্যাম্প তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন অনিয়মের। নিম্নমানের ও বিভিন্ন সাইজের ইটের পাথর দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ করা। কাঠগড় পয়েন্টের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের এক পাশ বন্ধ করে আরেক পাশেই নিরাপত্তা বেষ্টুনী ছাড়াই চলছে দুইমুখী যান চলাচল। এতে ঘটতে পারে যেকোনো মুহুর্তে ভয়াবহ দূর্ঘটনা।
প্রকল্পের চলমান পুরো এলাকায় একাধিক নির্মাণকাজ একই সময়ে চলায় বিঘ্ন হচ্ছে, যানবাহন ও পথচারীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বেষ্টনি না থাকায় চলাচলেও তৈরি হচ্ছে নানান ধরনের জনভোগান্তি। তবে এত বড় ব্যয়ের প্রকল্পে নির্মাণস্থলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই নির্মাণকাজ চলতে দেখা গেছে। এতে নির্মাণস্থলের পাশে দিয়ে চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহনের জন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় হচ্ছে নানান ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প ব্যয়ের। বিভিন্ন অনুসন্ধানে উঠে আসে, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ম্যাক্স এর প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. মনির হোসেন এর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ সহ নানান তথ্য উঠে আসে।
এদিকে ম্যাক্সের প্রতিষ্ঠানটি তাদের ইচ্ছামত কাজ করায় সাধারণ মানুষ পড়েছে ভোগান্তিতে। ফলে আগ্রাবাদ, বারেক বিল্ডিং এর দিকে উঠার লুপের কাজ চলায় সৃষ্টি হয়েছে জনভোগান্তি। ম্যাক্সের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ব্যবস্থা। যান চলাচলের ব্যবস্থা একদিকে হওয়ায় যেকোনো মুহুর্তে ঘটতে পারে বড় দূর্ঘটনা। সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিকল্পনার অভাব, নিম্নমানের সংস্কারকাজ এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীন উন্নয়নকাজের কারণে বর্ষা মৌসুমে সড়কের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লোহার রডের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। অন্যদিকে থ্রি ফোর বোল্ডের পাথর ব্যবহারের কথা থাকলেও ইপিজেডের দিকে নামতে সরেজমিনে র্যাম্পে দেখা যায় ব্যবহার হচ্ছে নিম্নমান ও বড় পাথর। থ্রি ফোর বা থ্রি ফোর ডাউনের ব্যবহার কথা থাকলেও সেটা সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সেখানে ব্যবহার হচ্ছে ১৪/১৮, ১৮/২২ পাথর। অন্যদিকে আরও দেখা যায় ইটের কংকরও ব্যবহার হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে কাজের শ্রমিকদেরও নেই কোনো সেফটি ব্যবস্থা।
অন্যদিকে অনুসন্ধানে উঠে আসে ২০২৪ সালে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন স্থানীয় এমপি লতিফের নেতৃত্বে সরকারি বিভিন্ন সরকারি সংস্থা কর্মকর্তা। উঠে আসে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে নির্মাণ ত্রুটি ও লালখান বাজার পয়েন্টে ফাটলের স্থান। চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের গুণগত মান যাচাই এবং অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করতে তিন সদস্যের উপকমিটি গঠন করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংসদ সদস্য এম এ লতিফ বলেন, ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলারে যেসব ক্র্যাকের (ফাটল) কথা বলা হয়েছে, তা আমরা স্বচক্ষে দেখেছি। আপনারাও (গণমাধ্যমকর্মী) দেখেছেন। এটি টেকনিক্যাল (কারিগরি) বিষয়। আমরা বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করব। তাঁদের মতামত নেব।’
বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনও পর্যন্ত ম্যাক্স ইনফরাস্ট্রাকচার লিমিটেডের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই চালাচ্ছে কাজ।







