ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার এই সফরে আলোচনায় এসেছে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় তৈরি তার প্রেসিডেনসিয়াল বিমান, যেটিকে ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ বা ‘ডুমসডে প্লেন’ বলা হয়।
পুতিন শুক্রবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছান। ভারত সফরে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন।
পুতিন সাধারণত ইলিউশিন আইএল-৯৬-৩০০পিইউ মডেলের বিশেষভাবে পরিবর্তিত বিমান ব্যবহার করেন। তার এবারের সফরেও একই ধরনের দুটি বিমান একসঙ্গে উড়েছে। এর একটি ছিল পুতিনের মূল বিমান, অন্যটি ছিল ডিকয় বা বিভ্রান্তিমূলক বিমান। এর ফলে কোন বিমানে রুশ প্রেসিডেন্ট রয়েছেন, তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ হিসেবে পরিচিত এই বিমানটি মূলত একটি উড়ন্ত কমান্ড সেন্টারের মতো করে তৈরি। এতে নিরাপদ ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে সামরিক, গোয়েন্দা ও সরকারি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।
বিমানটিতে রাডার জ্যামিং প্রযুক্তি, উন্নত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং সুরক্ষিত রেডিও ও ডাটা চ্যানেল রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে এটি রুশ প্রেসিডেন্টের মোবাইল কমান্ড সেন্টার হিসেবেও কাজ করতে পারে।
আইএল-৯৬-৩০০পিইউতে চারটি ইঞ্জিন রয়েছে এবং একবারে প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। বিমানটির দৈর্ঘ্য ৫৫ দশমিক ৩৫ মিটার এবং ডানার বিস্তার ৬০ দশমিক ১২ মিটার।
তবে নিরাপত্তার পাশাপাশি বিলাসিতার ব্যবস্থাও রয়েছে বিমানটিতে। এতে প্রেসিডেন্টের জন্য আলাদা স্যুট, শোবার ঘর, বিলাসবহুল বাথরুম, ব্যক্তিগত রান্নাঘর ও খাবারের জায়গা রয়েছে। রয়েছে বড় সম্মেলনকক্ষও।
এ ছাড়া বিমানের অভ্যন্তরে সোনার প্রলেপ দেওয়া বিভিন্ন সরঞ্জাম, উন্নত কাঠের কাজ এবং দামি চামড়ার আসবাব ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি






