অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি আনন্দিত, আমার সংসদীয় আসনে এ টার্মিনাল হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর অর্থনীতির প্রাণশক্তি। এখানে বাণিজ্যিক হাব আছে, সেটি প্রসারিত হচ্ছে। এটি চলমান থাকবে। আরও অনেক প্রতিষ্ঠান বন্দরে বিনিয়োগে আগ্রহী। তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যেখানে যাকে দেশের স্বার্থে ব্যবহার করা যায় সেটি করতে সক্ষম হচ্ছে। এপিএম কনটেইনার টার্মিনাল বাস্তবায়নে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন মন্ত্রী।
স্বাগত বক্তব্য দেন এপিএম টার্মিনালস লালদিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রমেশ ডেভিড। তিনি বলেন, এ টার্মিনালে অ্যাডভান্সড টেকনোলজি ব্যবহার করা হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, আমি খুবই আনন্দিত। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের মেজর গেটওয়ে। এ বন্দর দেশের ৯২ শতাংশ আমদানি রপ্তানি এবং ৯৮ শতাংশের বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে। ডেনমার্কে গ্রিন টেকনোলজির কিছু টার্মিনাল আমি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। ১০ বছরে আমাদের কনটেইনার হ্যান্ডলিং দ্বিগুণ হচ্ছে। আমরা বিদেশি বিনিয়োগ পার্টনারকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাই।
বক্তব্য দেন এপিএম টার্মিনালস বিভি’র গ্লোবাল হেড অব বিজনেস ইমপ্লেমেন্টেশন জেক ক্রেইগ, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া। উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত, চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগে ডেনমার্কের বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস লালদিয়ায় কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করছে। তাদের লোকাল পার্টনার হিসেবে থাকছে কিউএনএস কনটেইনার সার্ভিসেস লিমিটেড। এ টার্মিনালে থাকবে ৭টি শিপ টু শোর (এসটিএস) গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি ইলেকট্রিক রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন (ইআরটিজিএস) এবং ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্র্যাক্টরস।
কর্ণফুলী নদীর পাড়ের ৫৯ দশমিক ১৫ একর জায়গায় হবে টার্মিনালটি। এর মধ্যে ৩২ একরে মূল টার্মিনাল, ৭ দশমিক ১৫ একরে কনটেইনার ইয়ার্ড এবং ১০ একরে ট্রাক পার্কিং। নির্মাণকাল ৩ বছর। অপারেশন চলবে ৩০ বছর, প্রয়োজনে বাড়বে আরও ১৫ বছর। বছরে ৯ লাখ টিইইউএস হ্যান্ডলিং ক্ষমতার এ টার্মিনালে ৬১৩ মিটারের জেটিতে ভিড়তে পারবে ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফট ও ৬ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতার বড় জাহাজ। এ টার্মিনালে ২৪ ঘণ্টা জাহাজ আনা নেওয়া করা যাবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এপিএম টার্মিনালস থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে এককালীন। বছরে পাবে আড়াই লাখ ডলার কনসেশন ফি। কনটেইনার প্রতি পাবে ২৩ ডলার। প্রকল্প এলাকা থেকে উচ্ছেদ হওয়া ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ১৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে এপিএম টার্মিনালস। ২০৩০ সালে অপারেশনে যাবে লালদিয়া টার্মিনাল।







