তবে উদ্যোগটির বিশেষত্ব শুধু কম সুদের ঋণে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ব্যবসা পরিচালনায় সাফল্য এবং ঋণের কিস্তি যথাসময়ে পরিশোধের রেকর্ড বিবেচনায় নিয়ে উদ্যোক্তাদের অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনাও করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মাসরুর আরেফিন বলেন, কোনো উদ্যোক্তা ১০ লাখ টাকা ঋণ নিলে পরবর্তী সময়ে তার ব্যবসার পারফরম্যান্স ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনায় একই পরিমাণ, অর্থাৎ সর্বোচ্চ আরও ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ব্যাংকগুলো তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর তহবিল থেকে এ অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এতে তরুণদের মধ্যে ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ এবং ব্যবসা টেকসইভাবে পরিচালনার প্রবণতা তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঋণনির্ভরতার বাইরে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করার সুযোগ তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত তহবিলের ঋণের বিপরীতে কোনো জামানত নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। ফলে জমি বা অন্য কোনো সম্পদ বন্ধক রাখার সক্ষমতা না থাকলেও যোগ্য তরুণদের ব্যবসা শুরু করার সুযোগ থাকবে।
উদ্যোক্তা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও স্থানীয় পর্যায়কে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বৈঠকে উপজেলা পর্যায়ে প্রকৃত উদ্যোক্তা চিহ্নিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্থানীয় ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক কিংবা নির্ধারিত কমিটির মাধ্যমে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের যাচাই-বাছাই করা হবে।
এতে তদবির, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তির ঋণ পাওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবিবির চেয়ারম্যান জানান, দেশের ৫০০টির বেশি উপজেলায় ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা খুঁজে বের করবে। উদ্যোক্তা বাছাইয়ের সময় ব্যবসার সম্ভাবনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দক্ষতা এবং প্রকৃত উদ্যোগ নেওয়ার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত তহবিলের আওতায় ব্যবসার ধরনও নির্দিষ্ট কোনো খাতে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা নেই। উৎপাদন ও বাণিজ্য—দুই ধরনের উদ্যোগই এ কর্মসূচির আওতায় আসতে পারে।
সম্ভাব্য খাতগুলোর মধ্যে মৎস্য চাষ, প্রাণিসম্পদ, খাদ্য উৎপাদন, হস্তশিল্প, শতরঞ্জি তৈরি এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা রয়েছে। এর ফলে শহরের পাশাপাশি উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ের তরুণদেরও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।






