টানা পাঁচ দিনের অতি ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং পানি নিষ্কাশনের সংকটে চট্টগ্রামে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে মৎস্য খাত। জেলার ১৫ উপজেলার ৭৩৭৫টি পুকুর-দিঘি ও ৪৫টি চিংড়ি ঘের তলিয়ে যাওয়ার তথ্য দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। এরমধ্যে ৭ হাজার ৩৭৫টি পুকুর-দিঘি ও মাছের খামার এবং ৪৫টি চিংড়িঘের প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৮০৫ টন মাছ ও ৪৮ লাখ ৪০ হাজার পোনা ভেসে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পটিয়া উপজেলা। সেখানে ১ হাজার ৪৩৫টি পুকুর ও মাছের খামার পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার খরনা ইউনিয়নের মাছচাষি অমর সর্দার জানান, তার একটি বড় মাছের প্রকল্প ও ছয়টি পুকুর পানিতে ডুবে গেছে। রুই, কাতলা, কালিবাউশ, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে যাওয়ায় তার প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
পটিয়া উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নেই মাছের খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা (ট্রিটমেন্ট) দিতে হবে, না হলে অবশিষ্ট মাছও মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হাটহাজারীতে অন্তত ১৪০টি জলাশয় প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার হালদা নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সম্প্রতি হালদা নদী থেকে সংগ্রহ করা ডিম থেকে উৎপাদিত মূল্যবান রেণু পোনা বিভিন্ন পুকুরে লালন করা হচ্ছিল। কাগতিয়া গ্রামের মাছচাষি রওশনগীর আলম বলেন, তার তিনটি পুকুরে থাকা প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। তিনি জানান, অতি বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ৪৫০টি পুকুর-দিঘি এবং ৩৫টি চিংড়িঘের তলিয়ে গেছে। স্থানীয় মাছচাষি অনুপম দাশ জানান, তার তিনটি মাছের পুকুর পানিতে ডুবে গেছে। একই সঙ্গে পানির তোড়ে তার বসতঘরের একটি অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ৭ হাজার ৪২০টি জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ৩৯ কোটি ৩১ লাখ টাকার ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে। পানি নেমে গেলে পূর্ণাঙ্গ জরিপের মাধ্যমে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। তিনি জানান, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন।
এদিকে জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলা। দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।







