দুর্ঘটনার বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান
দুর্ঘটনার বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ঢাকা বিভাগে দুর্ঘটনা ২৪.৫৭%, প্রাণহানি ২৬.৯৪%, রাজশাহী বিভাগে দুর্ঘটনা ১৮.৪৩%, প্রাণহানি ১৭.৫৭%, চট্টগ্রাম বিভাগে দুর্ঘটনা ২৩.৭২%, প্রাণহানি ২৫.৭৯%, খুলনা বিভাগে দুর্ঘটনা ৮.৬৮%, প্রাণহানি ৮.৬৭%, বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা ৫.৯৩%, প্রাণহানি ৫.০২%, সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ৪.৪৪%, প্রাণহানি ৪.৩৩%, রংপুর বিভাগে দুর্ঘটনা ১০.১৬%, প্রাণহানি ৮% এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুর্ঘটনা ৪.০২%, প্রাণহানি ৩.৬৫% ঘটেছে।
ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম ১৯টি দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৪৯ জন আহত হয়েছেন।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণসমূহ
১. ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; ২. ত্রুটিপূর্ণ সড়ক; ৩. বেপরোয়া গতি; ৪. চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; ৫. বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা; ৬. মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল; ৭. তরুণ-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল ড্রাইভিং; ৮. জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; ৯. দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; ১০. বিআরটিএ-র সক্ষমতার ঘাটতি; এবং ১১. গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।
সুপারিশসমূহ
দুর্ঘটনা রোধে ১২ দফা সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন করে এই কাউন্সিলের অধীনে বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিটিসিএ পরিচালনা এবং কাউন্সিলের হাতে আইন, বিধি ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা থাকতে হবে। বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিটিসিএ’র ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং এসব টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে।
এ ছাড়াও, মোটরযানে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা; সড়ক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার; রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু; বিআরটিসির বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিবহন সেবা উন্নত করে সরকারের পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানো; দক্ষ চালক তৈরির প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বৃদ্ধি করে তাদের বেতন, কর্মঘণ্টা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা; স্বল্প গতির ছোট যানবাহনের জন্য সকল মহাসড়কে সার্ভিস রোড নির্মাণ-সহ নিরাপদ রোড ডিজাইন করা; সব রেল ক্রসিংয়ে গেইট-কীপার নিয়োগ করা; সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে ও দক্ষতা বাড়াতে জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করা; প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। কারণ, তারা জনপ্রশাসন পরিচালনা ও নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
টেকসই পরিবহন কৌশলের অধীনে সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহন একত্রিত করে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে। এতে করে সমন্বিত, পরিকল্পিত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।







