ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, আমরা একটি ‘ফ্যামিলি ট্রি’ করার পরিকল্পনা করছি। কেউ একজন আবেদন নিয়ে এলে সেখানে তার পিতা-মাতা, কয়জন ভাই-বোন আছে, তাদের এনআইডির তথ্য দিতে হবে। এক্ষেত্রে এনআইডি জালিয়াতির হার যেমন কমবে, তেমনি পরিবারের সবার তথ্যও একসঙ্গে পাওয়া যাবে। ওয়ারিশ সনদ তখন আমরাই দিতে পারব।
ইসি সচিব আরও বলেন, ‘ফ্যামিলি ট্রি’ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনায় রয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুতই এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
অনেকের সনদের সঙ্গে ভাই-বোনের এনআইডিতে উল্লেখিত পিতা-মাতার নামের মিল নেই। আবার অনেক পরিবারেই ভাই-বোনদের কারও কাগজপত্রের সঙ্গে অন্যজনের কাগজপত্রে পিতা-মাতার নামের মিল নেই। এমন ক্ষেত্রে কেউ ভোটার হতে এলে বা এনআইডির জন্য আবেদন করলে সমাধান কী হবে— জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমত, এটা কি স্বাভাবিক বিষয় যে ভাই-বোনদের মধ্যে পিতা-মাতার নামের বানানে মিল নেই? মোটেই স্বাভাবিক নয়। দ্বিতীয়ত, এমন হলে তারা সবাই মিলে পিতা-মাতার নামের বানান একই রকম করার জন্য আবেদন করবেন। আমরা করে দেব। এতে তো কোনো অসুবিধা নেই।
ইসি সচিব বলেন, আমরা চাই সবার এনআইডিতে একই রকম তথ্য থাকুক। এজন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম কমে আসবে। এনআইডি সংশোধনের জন্য আবেদনের হারও কমবে।
সাধারণ ক্ষেত্রে ভোটার হয়ে এনআইডি পাওয়ার জন্য নাম, পিতা-মাতার এনআইডির কপি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, পাসপোর্ট, জন্মসনদ, ইউটিলিটি বিল, বিবাহিতদের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর এনআইডির কপি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, টিআইএন নম্বর, ফোন বা মোবাইল নম্বর, রক্তের গ্রুপ ইত্যাদি কাগজপত্র ও তথ্য দিতে হয়।
এছাড়া এনআইডি সংশোধনের জন্য হলফনামা, শিক্ষাসনদ, পরিবারের সদস্যদের এনআইডি, তালাকনামা, কাবিননামা, বাড়ির দলিল, ইউটিলিটি বিল, ওয়ারিশ সনদ ইত্যাদি তথ্য দিতে হয়।
প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার জন্য পাসপোর্টের কপি (মেয়াদ থাকুক বা না থাকুক), সংশ্লিষ্ট দেশে বসবাসকারী এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যয়ন, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে জমা দিতে হয়। বাধ্যতামূলক নয় এমন তথ্য নিবন্ধন কেন্দ্রে জমা দিতে না পারলে প্রবাসীরা দেশে থাকা আত্মীয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কর্মকর্তার কাছে তা জমা দিতে পারেন।
অন্যদিকে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৫৬টি উপজেলা/থানার জন্য (চট্টগ্রাম অঞ্চল) বিশেষ তথ্য ফরম, শিক্ষাসনদ, পিতা-মাতার এনআইডি, মৃত্যু সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স/টিআইএন, দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ, নিকাহনামা, স্বামী-স্ত্রীর এনআইডি, নাগরিকত্ব সনদ, ইউটিলিটি বিলের কপি, ভাড়াটিয়া হলে বাড়িভাড়ার চুক্তিপত্র এবং বাড়িওয়ালার অনাপত্তিপত্র জমা দিতে হয়।
বর্তমানে ইসির সার্ভারে ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন নাগরিকের তথ্য রয়েছে। এদের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ১ হাজার ২৪৩ জন।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারি-বেসরকারি প্রায় ২০২টি প্রতিষ্ঠান নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইসির সার্ভার থেকে যাচাই সেবা নিয়ে থাকে। ‘ফ্যামিলি ট্রি’ চালু হলে খুব সহজেই পরিবারের সবার তথ্য পাওয়া যাবে।







