২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং, কার্গো, জাহাজ চলাচল ও রাজস্ব সব ক্ষেত্রেই সৃষ্টি হয়েছে নতুন রেকর্ড। দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত এই সমুদ্র বন্দরে এই অর্থবছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়ে হয়েছে ৩.৫২ মিলিয়ন টিইইউ।
মঙ্গলবার প্রকাশিত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরে মোট ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৬.৭৬ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছিল।
এদিকে গত দুই বছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে সাড়ে ৩ লাখেরও বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৩১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৯০ টিইইউ।
একই সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিংও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরে মোট ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ৪০ হাজার টন কার্গো ওঠানামা হয়েছে, যা আগের বছরের ১৩০.৭২মিলিয়ন টনের তুলনায় ৫.৩৬ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ সয়খ্যাটি ছিল ১২৩.২৪ মিলিয়ন টন।
জাহাজ আগমনও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরে মোট ৪ হাজার ৩২৪টি জাহাজ ভিড়েছে, যা আগের বছরের ৪ হাজার ৭৭টির তুলনায় ৬.০৬ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৯৭১টি।
বন্দরের কার্যক্রমেও দক্ষতা বেড়েছে। কনটেইনারবাহী একটি জাহাজ বন্দরে গড়ে যতদিন অবস্থান করে, সেই সময় ২.৫৮ দিন থেকে কমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২.৩৮ দিনে নেমে এসেছে।
আর্থিক দিক থেকেও ঊর্ধ্বমুখী
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব বেড়ে ৬ হাজার ৬২৯ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। আগের অর্থবছরে রাজস্ব ছিল ৫ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল প্রায় ৪ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা।
বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, পরিচালনাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং চলমান অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের সুফলই এই রেকর্ড সাফল্যের মূল কারণ।
রেকর্ড অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (মেরিন অ্যান্ড হারবার) কমোডর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও মূল্যস্ফীতির চাপ থাকা সত্ত্বেও বন্দর পরিচালনায় ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে প্রায় ১ হাজার ৯৫১ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা। এর ফলে অন্তত ৪৩৭ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাজারে মূল্যস্ফীতি ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে পরিচালন ব্যয় বাড়লেও বন্দরের সেবা বা কার্যক্রমে কোনো ধরনের ছাড় না দিয়েই এই ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে।







