বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কাতার এনার্জি সরকারকে জানিয়েছে, চলতি বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ এলএনজি কার্গোর পুরোটা সরবরাহ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ অর্ধেক কার্গো সরবরাহ করতে পারবে বলে জানিয়েছে।
জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত এবং উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘ্নের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ সীমিত থাকবে এবং এ অবস্থা কয়েক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে কাতার এনার্জি ইঙ্গিত দিয়েছে।
জানা গেছে, এ বিষয়ে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডকে (আরপিজিসিএল) পাঠানো এক বার্তায় কাতার এনার্জি জানিয়েছে, নির্ধারিত ৪০টি কার্গোর পরিবর্তে চলতি বছরে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ২০টি কার্গো পেতে পারে। ফলে জাতীয় জ্বালানি সরবরাহ পরিকল্পনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, কাতারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। লক্ষ্য হচ্ছে, অন্তত পূর্বনির্ধারিত সরবরাহের বড় অংশ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি কিনতে হবে, যা সরকারের ভর্তুকির বোঝা আরও বাড়াবে।
ইতোমধ্যে এলএনজি খাতে সরকারের ভর্তুকি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানির কারণে ব্যয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে শুধু কাতার এনার্জিই নয়, ওমানভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিং এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিংও ফোর্স ম্যাজিউর বহাল রেখেছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি—উভয় উৎস থেকেই সরবরাহ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেট্রোবাংলা একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে বিদ্যমান চুক্তিগুলোর ফোর্স ম্যাজিউর ধারা পর্যালোচনা, আইনি অবস্থান মূল্যায়ন এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।
সরকার এখন মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নতুন সরবরাহকারী দেশ খুঁজছে। অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, নাইজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও আলজেরিয়াসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সম্ভাব্য স্বল্পমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ নিয়ে আলোচনা চলছে।
নীতিনির্ধারকদের মতে, একক অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরবরাহের উৎসে বৈচিত্র্য আনাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। এতে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।






