রেলের যাত্রীভাড়া, মালামাল পরিবহন, সম্পত্তি ও স্থাপনা ভাড়া থেকে নিয়মিত আয় হয়, যা সরকারের কর-বহির্ভূত রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের মোট ব্যয় থেকে সম্ভাব্য আয় সমন্বয় করে নিট ব্যয়ের হিসাব বাজেটে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ফলে রেলের প্রকৃত রাজস্ব আয় বাজেটের কর-বহির্ভূত রাজস্ব অংশে আর প্রতিফলিত হচ্ছে না।
এদিকে, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন হিসেবে রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে। রাজধানীর সঙ্গে সব জেলা ও প্রধান শহরকে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করা, নগরায়ণের সঙ্গে রেলব্যবস্থার সমন্বয়, আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ এবং ইন্টারসিটি কমিউটার ট্রেন সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ, রেল বিদ্যুতায়ন, আধুনিক সিগন্যালিং ও ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন চালুর কাজও এগিয়ে চলছে।
তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ঢাকা-কুমিল্লা অংশে কর্ডলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে। তিনটি সম্ভাব্য এলাইনমেন্ট বিশ্লেষণের পর কুমিল্লা বাইপাসের একটি রুট প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন রুট চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে ৩২০ কিলোমিটার থেকে ২৪০ কিলোমিটারে নেমে আসবে। এতে ট্রেনের যাত্রাসময় বর্তমান প্রায় ৬ ঘণ্টা থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর, বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে প্রস্তাবিত কুমিল্লা ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) সঙ্গে রেলপথে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তার ভাষ্য, এতে দেশের লজিস্টিকস ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
বাজেট বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, নতুন রেলপথ ও স্টেশন নির্মাণ, আধুনিক লোকোমোটিভ, কোচ ও ওয়াগন সংগ্রহ, বিদ্যমান রেলপথ ও সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ জোরদার করা হবে। পাহাড়তলী রেলওয়ে ওয়ার্কশপের সক্ষমতা বাড়িয়ে স্থানীয়ভাবে কোচ ও লোকোমোটিভ সংযোজন, চাকা, সিগন্যালিং যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকার বাংলাদেশ রেলওয়েকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে লাভজনক রুটে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি, ইলেকট্রিক ট্রেন চালু, উচ্চগতির রেল সংযোজন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে রেল অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে।







