দেশের অর্থনীতিতে নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরির লক্ষ্যে পর্যটনের সঙ্গে থিয়েটার, সংগীত, চলচ্চিত্র ও শিল্পকলাকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংস্কৃতিকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপ দিতে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।অর্থমন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ পর্যটনের সম্প্রসারণ স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং বিনোদন খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একই সঙ্গে সিনেমা, সংগীত ও থিয়েটারের মাধ্যমে বাংলাদেশের ‘সফট পাওয়ার’ গড়ে তোলার বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।তিনি বলেন, শুধু বিদেশি পর্যটকের ওপর নির্ভর না করে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের জন্য বিনোদনের সুযোগ বাড়ানো গেলে তা অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।
বর্তমানে দেশে বিনোদনের সুযোগ সীমিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, থিয়েটার, ডিজাইন, আর্ট এবং মিউজিকের মতো সৃজনশীল খাতগুলোকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’র আওতায় আনা হচ্ছে।অর্থমন্ত্রী জানান, ঢাকার বাইরে একটি বিশেষ ক্রিয়েটিভ হাব বা সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে এ ধরনের প্রথম উদ্যোগ।আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে টেকসই করতে হলে সেগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক বা ‘মনিটাইজ’ করতে হবে। মিউজিক, থিয়েটার কিংবা ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে সেগুলো সংরক্ষণ করা কঠিন হবে। এ লক্ষ্যেই তরুণ শিল্পী ও সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে।বিশ্বের অনেক দেশ সিনেমা, গান ও থিয়েটারের মাধ্যমে নিজেদের সফট পাওয়ার গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশও সেই পথে এগোতে চায়। এর ফলে একদিকে পর্যটন খাতের বিকাশ ঘটবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে বলেও উল্লেখ করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।