চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে নতুন করে দুটি প্রকল্প হাতে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। প্রাথমিকভাবে প্রকল্প দুটির সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা। তবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্ত হওয়ার পর ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নগরের টাইগারপাসে চসিকের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রকল্প দুটির প্রাথমিক ব্যয় ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। সভায় মেয়র শাহাদাত হোসেন, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের একটি হবে বর্তমানে চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রমের আওতাভুক্ত ৩৬টি খালের রক্ষণাবেক্ষণ, পুনঃখনন ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা নিয়ে। পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২২ কোটি টাকার বেশি। খাল থেকে পলি ও বর্জ্য অপসারণ, পুনঃখনন, সীমানা সুরক্ষা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনার কাজ এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অন্যদিকে চলমান প্রকল্পের বাইরে থাকা ২১টি খালের উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য নেওয়া হচ্ছে পৃথক আরেকটি প্রকল্প। প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এসব খালের উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় খালের তীর সংরক্ষণ, জোয়ার প্রতিরোধক অবকাঠামো, পাম্প স্টেশন, জমি অধিগ্রহণ, বিভিন্ন সেবা সংস্থার লাইন স্থানান্তর, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে।
চসিক সূত্র জানায়, প্রকল্প দুটির প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত ও প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে চলতি মাসের মধ্যেই ডিপিপি চূড়ান্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে চলতি বছরের শেষ দিকে একনেক সভায় প্রকল্প অনুমোদনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে চারটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। সিডিএ, সিটি করপোরেশন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ১৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা। গত মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পগুলোতে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।
জলাবদ্ধতা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত ২১টি খালের বাইরেও নগরে আরও অনেক খাল রয়েছে, যেগুলোকে উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় জলাবদ্ধতা সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান সম্ভব হবে না।
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরের জলাবদ্ধতা কমাতে খালগুলোকে সচল, দখলমুক্ত ও নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। শুধু খাল খনন নয়, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্লুইসগেট, খাল দখল ও সংকুচিত হয়ে যাওয়া জলপ্রবাহের পথ—সবকিছু সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর ব্যয় ও খালের তালিকা পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজন হলে আরও খাল অন্তর্ভুক্ত করা হবে।







