রোববার (৭ জুন) দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে আসামিদের পুলিশের পাহারায় বের করে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় উত্তেজিত জনতা এ ধিক্কার ও তিরস্কার জানায়।
এর আগে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।
পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ ও স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে (ওয়ারিশ) দিতে বলা হয়েছে।
কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বেলা ১১টা বাজার ৫ মিনিট আগে মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের পঞ্চম তলায় শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় আনা হয় আসামিদের।
রায় ঘোষণা ঘিরে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়।
মামলার বাদী ও আসামিপক্ষের স্বজনেরা আদালতে উপস্থিত হতে শুরু করেন। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
আদালতের প্রধান ফটক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি অন্য যে কোনো দিন থেকে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। আদালত চত্বরে রাজারবাগ পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত ফোর্স নিরাপত্তার জন্য দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ১৯ মে শিশুটি ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়। হত্যার পর রুমের জানালার গ্রিল কেটে ১নং আসামি সোহেল রানা পালিয়ে যায়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আসামি স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। আর নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন।
মামলাটি শুরু থেকেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ মামলায় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ সব প্রয়োজনীয় নথি আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করা হয়।







