কক্সবাজারে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে খামারিরা এবার লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন। জেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
খামারিদের অভিযোগ, গো-খাদ্যের দাম গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বার্মিজ গরু প্রবেশ করায় স্থানীয় বাজারে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে বর্তমানে খামারের সংখ্যা ৮ হাজার ২৮৭টি। এসব খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ১৬৩টি পশু। অথচ জেলায় সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৯২টি। সেই হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকছে ২৪ হাজার ৭৭১টি পশু।
প্রস্তুত পশুর মধ্যে রয়েছে ৬৩ হাজার ১৩৯টি ষাঁড়, ২৪ হাজার ২৮৩টি বলদ, ১৬ হাজার ৪৫১টি গাভী, ৬ হাজার ২৭৯টি মহিষ, ৩৩ হাজার ৫৫২টি ছাগল এবং ১৪ হাজার ৪৬৩টি ভেড়া।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ. এম. খালেকুজ্জামান বলেন, জেলার আট উপজেলায় কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত থাকায় সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।
পশুর সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও খামারিদের প্রধান দুশ্চিন্তা এখন উৎপাদন ব্যয়। খামারসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর গো-খাদ্যের দাম প্রতি বস্তায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
ঈদগাঁওয়ের রশিদনগর ইউনিয়নের খামারি শহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছর আমার খামারে ৩৯টি গরু ছিল। খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবার কমিয়ে ২০টিতে আনতে হয়েছে। খামারিরা গরু কম পালন করছে, তাই বাজারে দামও বেশি হতে পারে।
উখিয়ার খামারি জাকির হোসেন বলেন, আগে পরিত্যক্ত জমিতে ঘাস পাওয়া যেত, এখন সেটাও নেই। খাদ্যের দামও বাড়ছে। অভাবের কারণে কোরবানির আগেই তিনটি গরু বিক্রি করে দিতে হয়েছে।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ. এম. খালেকুজ্জামান জানান, খামারিদের কাঁচা ঘাস ও খড় বেশি খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে খাদ্য ব্যয় কিছুটা কমানো যায়।
প্রসঙ্গত, এ বছর কক্সবাজারে মোট ৯৪টি পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে ৪৮টি স্থায়ী এবং ৪৬টি অস্থায়ী হাট। অস্থায়ী হাটগুলোর ইজারা প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।






