আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির আগেই গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (১২ মে) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, পশুর হাটের নিরাপত্তা এবং সড়ক-মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখাসহ প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঈদুল আজহার প্রাক্কালে এবং পরবর্তী সময়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেল ঈদের আগের ৭ দিন এবং পরের ৭ দিন সার্বক্ষণিক কার্যকর থাকবে। এছাড়া র্যাব, পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ সকল গোয়েন্দা সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে জনসাধারণের জন্য পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস (১০২) ও বিআইডব্লিউটিএ (১৬১১৩) সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর হটলাইন নম্বরগুলো চালু থাকবে।
মন্ত্রী জানান, এবার সারাদেশে ৪ হাজার ২৫৯টি পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৫টি এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১১টি হাট থাকবে। হাটগুলোতে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জালনোট শনাক্তে প্রতিটি হাটে ব্যাংকগুলোর বুথ ও মেশিন থাকবে। এছাড়া ইজারাদারদের চাহিদানুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অঙ্গীভূত আনসার’ নিয়োজিত করা হবে।
সড়ক ও নৌপথে পশুবাহী যানবাহনে যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি কঠোরহস্তে দমনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবে এবং সিভিল ড্রেসে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।” চামড়া পাচার রোধে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, চামড়ার গুণগত মান রক্ষায় কোরবানি পরবর্তী দুই ঘণ্টার মধ্যে লবণ দিয়ে সংরক্ষণের জন্য দেশব্যাপী প্রচারণা চালানো হবে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের অনুমোদন দিয়েছেন।
সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং মহাসড়কের গর্তগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। ফেরি ও লঞ্চে যাত্রী ও পশু পরিবহনে হেনস্তা বন্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
ভারতের অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন বা অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক প্রভাব পড়ার শঙ্কা নাকচ করে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে। সীমান্ত দিয়ে কোনো প্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ বা ‘পুশ-ইন’ রোধে বিজিবি সর্বদা জাগ্রত রয়েছে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকারের গৃহীত এসব পদক্ষেপের ফলে দেশবাসী অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করতে পারবেন।







