সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবানের তিন নেত্রী। তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য শাকিলা ফারজানা, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না এবং বান্দরবানের আইনজীবী মেদাওয়ে মাধবী মারমা।
গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ৩৬ জনের নাম ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এতে এই তিনজনের নাম রয়েছে।
শাকিলা ফারজানা প্রয়াত হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া বিভিন্ন মামলায় তিনি আইনি সহায়তা দেন। এ কারণে তিনি হয়রানির শিকার হন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। একটি জঙ্গি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগও করেন তিনি। পরে আদালত তাঁকে খালাস দেন। ২০২৫ সালের ১ মার্চ চট্টগ্রামভিত্তিক একটি জঙ্গি সংগঠনকে অর্থায়নের অভিযোগে করা মামলায় শাকিলা ফারজানাসহ ২৫ জন খালাস পান।
মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় শাকিলা ফারজানা বলেন, ‘দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই।’
কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া এলাকার বাসিন্দা শামীম আরা স্বপ্না টানা দুই দশক ধরে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কক্সবাজার জেলা আদালতের সাবেক সরকারি কৌঁসুলি (পিপি)। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন ও একাধিক মামলার আসামিও হন। তাঁর স্বামী মো. জসিম উদ্দিন মহেশখালী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন।
শামীম আরা স্বপ্না বলেন, ‘সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দলের নেতা–কর্মী ও অসহায় মানুষের পাশে থাকতে চাই।’
বান্দরবান থেকে মনোনীত নারী সংসদ সদস্য মেদাওয়ে মাধবী মারমা পেশায় আইনজীবী ও বর্তমানে জেলা পরিষদের সদস্য। তবে মাধবী মারমা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কোন পদে আছেন, দায়িত্বশীল নেতারা কেউ বলতে পারেননি। তবে তিনি গত শুক্রবার বলেছিলেন, কোনো পদে না থাকলেও দলে সবার গ্রহণযোগ্যতা থাকায় তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন চেয়েছেন।
১৭ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার শুরু করে বিএনপি। দলটির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেন। মনোনয়ন পেতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাত শতাধিক আবেদন জমা পড়ে।
আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে ৫০টি। প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হবে।







