ল্যাপটপে সুইচ চেপে কৃষক কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষের বিশেষ দিনে দুপুর ১২টা ২২ মিনিটে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে তিনি এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন।
উদ্বোধনের পরপরই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশের ১১টি উপজেলার মোট ২২ হাজার ৬৭ জন কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পৌঁছে যায়। এর মধ্যে শুধু টাঙ্গাইল জেলার ১ হাজার ৪৫৩ জন কৃষক এই সুবিধা পেয়েছেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার কৃষক কার্ড। এর প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হলো।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১৫ জন প্রান্তিক কৃষকের হাতে এই নতুন কৃষক কার্ড এবং গাছের চারা তুলে দেন। এই কার্ডটি মূলত সোনালী ব্যাংকের একটি ডেবিট কার্ডের সাথে যুক্ত। এর মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে বীজ ও সার কেনা, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ, সরকারি ভর্তুকি, প্রশিক্ষণ এবং ফসলের বীমাসহ আধুনিক সব প্রযুক্তিগত সেবা পাবেন।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহাম্মদ এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রথম পর্যায়ে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রকল্প শুরু হয়েছে। আগামী আগস্টের মধ্যে ১৫টি উপজেলায় এর পাইলট প্রকল্প চলবে এবং পরবর্তী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো প্রকল্পের প্রাক-পাইলট ধাপে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
পাঁচ ধাপে সারাদেশে এই কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষি উপকরণ, ন্যায্য মূল্যে সেচ, স্বল্প মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বল্প সুদে কৃষি ঋণসহ এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন একজন কৃষক।
এর আগে সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে টাঙ্গাইল পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। স্টেডিয়ামে তিনি হাত নেড়ে হাজার হাজার কৃষকের অভিবাদন গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে সভার কাজ শুরু হয়। পহেলা বৈশাখের এই দিনে স্টেডিয়াম জুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
উপস্থিত কৃষকরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন, এর ফলে সেচ, সার এবং আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে এবং সরাসরি সরকারি সহায়তা তাদের হাতে পৌঁছাবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এই দিনটিকে টাঙ্গাইলের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।







