সোমবার (১৩ এপ্রিল) চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে ইলিশের বাড়তি দাম। ক্রেতা তেমন না থাকলেও ছাড় নেই দামে।
বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১১শ থেকে ১২শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তার চেয়ে একটু বড় সাইজের ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কেজির কাছাকাছি ওজনের ইলিশ ১৮শ টাকা বা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া এক কেজি বা তার চেয়ে বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৪শ থেকে ২৫শ টাকা প্রতিকেজি। বড় সাইজের মাছের ক্ষেত্রে দাম আরও বেশি। কিছু কিছু মাছ ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫শ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে প্রতি কেজি।
মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে অনেক জেলে সাগরে যেতে পারছেন না। এর ফলে মাছ আহরণ কমে গেছে। এর সঙ্গে আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা এবং পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাড়তি চাহিদা সব মিলিয়ে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।
মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে চট্টগ্রাম উপকূলে যে পরিমাণ ইলিশ আহরিত হয়েছে, তা আগের বছরের মার্চের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি। সামগ্রিকভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসের তুলনায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইলিশ আহরণ বেশি হয়েছে প্রায় আড়াই গুণ।
মৎস্য দপ্তর জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ইলিশ আহরিত হয়েছিল ১ হাজার ৫৫৭ টন। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে প্রায় ৫ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। মার্চ মাসে প্রায় ১৬৭ টন ইলিশ ধরা পড়েছে কুতুবদিয়া চ্যানেল ও সাঙ্গু নদে।
চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা, হালিশহর, কাট্টলীসহ উপকূলীয় এলাকায় জেলেরা সাগরে মাছ ধরেন। এ ছাড়া সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, আনোয়ারা ও বাঁশখালীর জেলেরাও সাগরে মাছ শিকার করেন। মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, মার্চে ইলিশ আহরণ ভালো থাকায় এবার বৈশাখে বাজারে দাম কিছুটা কম থাকার কথা। তবে আহরণ করা বেশির ভাগ মাছ আকারে ছোট।
মৎস্য অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি সময়ে সাগরের চেয়ে নদীতে ইলিশ আহরণ কিছুটা কমেছে। তবে নদীতে প্রচুর পরিমাণে জাটকা রয়েছে। সংরক্ষণ করা গেলে আগামী মৌসুমে নদীতেও ইলিশ উৎপাদন বাড়বে। নদীতে ইলিশ কমে যাওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন, নদী ভরাট, পানিদূষণ এবং অতিরিক্ত আহরণ দায়ী।
চট্টগ্রাম সামুদ্রিক বোট মালিক সমিতির যুগ্ম মহাসচিব মো. ইসমাইলের দাবি, ইলিশের আহরণ তেমন বাড়েনি। সরকারি হিসাবের সঙ্গে জেলেদের হিসাব মেলে না। ফলে দামও সেভাবে কমেনি। আড়তেই এখন ছোট আকারের ইলিশ কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, বৈশাখ ঘিরে বাজারে ইলিশের সরবরাহ ও দামের ওপর নজরদারি রয়েছে। কোনো ব্যবসায়ী বা আড়তদার মজুত করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







