দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহকারী দেশ কাতার ও ওমান থেকে আগামী মে মাসে নির্ধারিত পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আসছে না। মে মাসের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময়ের জন্য নির্ধারিত ওই পাঁচ কার্গোর সরবরাহকারীরা ফোর্স মেজর ঘোষণা করেছে।
এর মধ্যে কাতার এনার্জি থেকে দুই কার্গো ও ওমানের ওকিউ ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল থেকে তিন কার্গো আসার কথা ছিল। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে এ বিষয়ে পেট্রোবাংলাকে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ফোর্স মেজর বলতে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতির কারণে চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ দিতে না পারার আইনি অবস্থা বোঝায়।
এদিকে দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে এলএনজি কার্গো পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় এরই মধ্যে পেট্রোবাংলা স্পট মার্কেট থেকে এসব কার্গো সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই মধ্যে দুটি কার্গো স্পট থেকে কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে এলএনজি কার্গো অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সরকার দ্বিগুণেরও বেশি দাম দিয়ে স্পট থেকে এলএনজি কিনছে। এতে উচ্চ দামে এলএনজি কিনতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির প্রয়োজন হচ্ছে। চলতি এপ্রিলে এলএনজি কিনতে ভর্তুকি বাবদ ৪ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা চেয়ে জ্বালানি বিভাগকে চিঠি দিয়েছে পেট্রোবাংলা। আর যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানি করতে অতিরিক্ত আরো ২০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির কথা জানিয়েছেন পেট্রোবাংলা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে কাতার ও ওমানের এলএনজিসহ জ্বালানি স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে তেল-গ্যাস চুক্তিবদ্ধ দেশগুলোর জন্য ফোর্স মেজর ঘোষণা করছে সরবরাহকারীরা। যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত এলএনজি ও জ্বালানিবাহী জাহাজ ছাড়া অন্য কোনো জাহাজ এখনো আসেনি। কবে নাগাদ এলএনজির সরবরাহ স্বাভাবিক হবে সেই পরিস্থিতিও এখন জানাতে পারছে না কাতার-ওমান।
এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গতকাল প্রথমবারের মতো কাতার থেকে এলএনজিবাহী দুটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করে। মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজ দুটির গন্তব্য ছিল চীন। তবে শেষ পর্যন্ত ট্যাংকার দুটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের ঠিক আগ মুহূর্তে তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে এবং পুনরায় আগের দিকে ফিরে যেতে শুরু করে। প্রণালিতে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি বা নিরাপত্তা শঙ্কার কারণেই জাহাজগুলো শেষ মুহূর্তে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ওমানের ওকিউ ট্রেডিং (ওকিউটি) থেকে মে মাসের জন্য নির্ধারিত তিন কার্গো এলএনজির ওপর ফোর্স মেজর ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ৭, ১১ ও ১৮ মের জন্য নির্ধারিত তিন কার্গো এলএনজি সরবরাহ করতে পারছে না ওকিউটি। গত ৩১ মার্চ প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এক নোটিসের মাধ্যমে পেট্রোবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি এলএনজির উৎস দেশ কাতার আগামী মে মাসের জন্য নির্ধারিত দুটি কার্গোর ওপর ফোর্স মেজর ঘোষণা দিয়েছে। ৫ ও ১২ মে কার্গো দুটি সরবরাহ করার কথা ছিল কাতার এনার্জির। ফোর্স মেজর ঘোষণার নোটিস গত ২৬ মার্চ পেট্রোবাংলাকে জানায় সরবরাহকারী কোম্পানিটি।
চলতি অর্থবছর (২০২৫-২৬) পেট্রোবাংলার ১১৫ কার্গো এলএনজি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। সে হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে কমবেশি ৯-১০ কার্গো এলএনজি আসে দেশে। পেট্রোবাংলার প্রাক্কলন অনুযায়ী, কাতার ও ওমান থেকে চলতি অর্থবছরে মোট ৫৬ কার্গো এলএনজি আমদানির কথা ছিল। এর মধ্যে কাতার এনার্জি থেকে ৪০ কার্গো এবং ওকিউটি থেকে ১৬ কার্গো কেনার কথা। ফোর্স মেজরের কারণে নির্ধারিত এসব কার্গো এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে এলএনজি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় পেট্রোবাংলা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে। এসব কার্গো ঘাটতির কারণে এলএনজি সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য স্পট মার্কেট থেকে কার্গো কেনা হচ্ছে। এরই মধ্যে আগামী মে মাসের জন্য কার্গো আমদানির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। আর চলতি এপ্রিলের জন্য সব কার্গো নিশ্চিত করেছে পেট্রোবাংলা।
সূত্র: বণিক বার্তা
প্রদা/ডিও







