চট্টগ্রাম মহানগরীর সার্বিক উন্নয়নে একযোগে ১০টি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। আবাসন, যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যটন, জলাবদ্ধতা নিরসন, দুর্যোগ মোকাবিলা ও বিনিয়োগ আকর্ষণসহ নানা খাতকে কেন্দ্র করে এসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পগুলোর সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে নগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধান হবে এবং নাগরিক জীবনের মান উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
সূত্র জানায়, গৃহীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ হচ্ছে মধ্যম হালিশহর থেকে ফৌজদারহাট জংশন পর্যন্ত সড়ক ও পার্কিং অবকাঠামো উন্নয়ন। এ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান আউটার রিং রোডের সঙ্গে সংযুক্ত করে প্রায় ১০.৬৯ কিলোমিটার চার লেনের বাঁধ-সংবলিত সড়ক, একাধিক সংযোগ সড়ক, সার্ভিস রোড, উড়ালসেতু, রিটেইনিং ওয়াল, পার্কিং এলাকা, সড়কবাতি, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য বহুতল মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় এলাকা ও নগরীকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সহজ হবে। একইসঙ্গে আবাসন, পর্যটন ও শিল্পখাতের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া বায়েজিদ লিংক রোড থেকে আমবাগান পর্যন্ত ‘নর্থ সাউথ-১’ নামে নতুন সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নগরীর উত্তর-দক্ষিণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সহজ করবে। জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বিপুল পরিমাণ খাস জমির উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে পরিবেশসম্মত উন্নয়ন ও আধুনিক নগর পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নগরীর যানজট নিরসনে মেহেদীবাগ সড়ক সম্প্রসারণ, কাজির দেউড়ি-গনি বেকারি, লাভলেইন-চেরাগী পাহাড় ও বৌদ্ধ মন্দির-সিনেমা প্যালেস সড়ক উন্নয়নসহ একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অক্সিজেন মোড়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট সড়ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা নগরীর অন্যতম যানজটপূর্ণ এলাকায় স্বস্তি এনে দেবে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সঙ্গে বন্দর এলাকার যোগাযোগ সহজ করতে কবি কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে মধ্যবিত্তদের আবাসন সংকট নিরসনে পতেঙ্গায় ‘বে পার্ল’ প্রকল্প এবং বায়েজিদ এলাকায় ‘নিসর্গ আবাসিক এলাকা’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফতেয়াবাদ এলাকায় নতুন একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে কয়েক লাখ মানুষের আবাসনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ নুরুল করিম জানান, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও পরিকল্পিত নগরীতে পরিণত হবে। তিনি বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা ও তদারকির ফলে প্রকল্পগুলো দ্রুত অনুমোদন পাবে বলে তারা আশাবাদী।







