সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা প্রদেশে একটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করার সময় সেটির ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়ামের বরাত দিয়ে আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদ সংস্থা ওয়ামের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফুজাইরার আল রিফা এলাকার একটি খামারে ড্রোনটি ভূপাতিত করার সময় সেটির কিছু অংশ নিচে পড়ে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সেখানে কর্মরত ওই বাংলাদেশি ব্যক্তি প্রাণ হারান।
তবে নিহতের নাম বা পরিচয় এখন পর্যন্ত বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছিলেন।
তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে দুজনের মরদেহ দেশে ফেরত আনা হয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরান থেকে ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে এনেছে সরকার।
এর আগে, গত ৮ মার্চ সৌদি আরবের আল-খারিজ শহরের কাছে আল-তোয়াইক এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রবাসী বাংলাদেশি মোশরফ হোসেন নিহত হন। ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে চালানো ওই হামলায় মোশারফসহ মোট তিনজন প্রাণ হারান।
পরবর্তীতে ২০ মার্চ সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে নিহত মোশারফ হোসেনের মরদেহ সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট (এসভি ৮০৬) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
তার আগে ১ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতে মৌলভীবাজারের বড়লেখার আহমদ আলী ওরফে ছালেহ আহমেদ (৫৫) নিহত হন। ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তিনি নিহত হন বলে জানান তার পরিবারের সদস্যরা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলার অংশ হিসেবে ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।
একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।







