যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত সত্ত্বেও ইরানের দৈনিক তেল রপ্তানি প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই তথ্য জানিয়েছে।
তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিগত রমজান মাসে ইরানের প্রতিদিনের তেল রপ্তানির পরিমাণ ১৫ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে। এর মানে হলো, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় তাদের তেল বিক্রি প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, ইরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ তেল বিক্রি করছে এবং দামও পাচ্ছে বৈশ্বিক বাজারের কাছাকাছি। এতে সরাসরি দেশটির তেল থেকে আয় বাড়ছে।
তেল রপ্তানির এই উন্নতি এমন এক সময়ে এল, যখন চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহন রুট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি (২০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল পারাপার হয়। ইরানের এই নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজ ভাড়া এবং বিমার খরচ বেড়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ ফেলছে।
ব্লুমবার্গের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আশারক বিজনেস’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান সম্ভবত কয়েকশ মিলিয়ন ডলার বাড়তি আয় করেছে।
হরমুজ প্রণালিতে অন্যান্য রপ্তানিকারকদের প্রবেশ সীমিত থাকার সুযোগে অপরিশোধিত তেলের এই বাড়তি দাম থেকে ইরান আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।
এদিকে বিশ্ববাজারের এই ক্রমাগত অনিশ্চয়তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলো যেকোনো সময় হামলার শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে সরাসরি হামলা চালায়, তবে তার অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং অন্যদিকে ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত চলছে। এই পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ওপর চাপ আরও বেড়েই চলেছে।
প্রদা/ডিও







