দেশের পাঁচ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় ১২ জন, ফেনীতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন এবং হবিগঞ্জে বাসের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) ও রবিবার (২২ মার্চ) সকালে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
ঢাকা:
রাজধানীর সদরঘাটে দুই লঞ্চের সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম মো. সোহেল (২২)। তাঁর বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে।
গত বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ।
পুলিশ জানায়, আজ বিকেলে সদরঘাটের ১৪ নম্বর পন্টুনের কাছে ঢাকা–ইলিশা (ভোলা) রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ নামে একটি লঞ্চ ট্রলার থেকে যাত্রী তুলছিল। এ সময় লঞ্চটিকে ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট রুটের ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ নামে একটি লঞ্চ ধাক্কা দেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এমভি জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চের পেছনের একটি কোণের আঘাতে ‘আসা যাওয়া–৫’ লঞ্চের দুজন যাত্রী পিষ্ট হন। এর মধ্যে একজনকে পানিতে পড়ে যেতে দেখা গেছে। অন্যজনকে ‘আসা যাওয়া–৫’–এর বাইরের অংশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
পুলিশের কোতোয়ালি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার ফজলুল হক বলেন, একজনের লাশ হাসপাতালে পাওয়া গেছে। তাঁর নাম সোহেল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর শ্বশুর মিরাজ ফকির নিখোঁজ রয়েছেন এবং শাশুড়ি রুবা ফকির আহত হয়েছেন।
পরবর্তীতে বুড়িগঙ্গা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার দীর্ঘ ৪৯ ঘণ্টা পর মিরাজ ফকিরের লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কেরানীগঞ্জের লবণের মিল সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
কুমিল্লা:
কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে উঠে পড়া একটি বাসের সঙ্গে ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, দুইজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে।
ঈদের দিন শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনটি এক কিলোমিটার কচুয়া চৌমুহনী এলাকায় গিয়ে থেমে যায়। ট্রেনের মাথায় বাসটি আটকে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ওয়ান আপ ট্রেন কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিং এলাকা অতিক্রম করছিলো। এসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। এসময় বাসটিকে এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস জানান, পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিংয়ে সিগন্যাল না থাকার কারণে বাসটি রেললাইনে উঠে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অজয় ভৌমিক জানান, আমরা এ পর্যন্ত হাসপাতালে ১২ জনের লাশ পেয়েছি। দুইজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে তবে অপর ১০ জনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
হবিগঞ্জ:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় পিকআপ ভ্যান ও বাসের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আঞ্জুরা নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাধবপুরে পিকআপভ্যান ও বাসের সংঘর্ষ হয়েছে। এরপর পিকআপ ভ্যানটি পাশে থাকা পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা পিকআপ ভ্যানে থাকা ৪ জনকে উদ্ধার করে মাধবপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ফেনী:
ফেনীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। রবিবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- মোহাম্মদ মোরশেদ (৩৮) ও মোহাম্মদ সোহাগ (৩৯)। অপর একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের লাশ ফেনী সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আহতদের এখন পর্যন্ত কারো নাম পরিচয় জানা যায়নি।
মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ আসাদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী-রামপুর এলাকায় চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি লেনে ব্রিজের সংস্কার কাজ চলছিল। ব্রিজের আগে স্পিড ব্রেকারে একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীর গতিতে পার হচ্ছিল। এসময় একটি বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়।
এ ঘটনায় বাস অ্যাম্বুলেন্স কথা কাটাকাটি শুরু হলে পেছনে মোটরসাইকেল ও আরও কিছু বাসের জট লেগে যায়। তার কিছুক্ষণ পর বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের একটি বাস জটলার মধ্যে ধাক্কা দেয়। এতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে একজন মোটরসাইকেল আরোহী, বাসের সুপারভাইজার, ও একজন যাত্রী নিহত হয় এবং ১১ জন আহত হয়।
চট্টগ্রাম:
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন দিনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী একটি বাস উল্টে গিয়ে পথচারীসহ ২ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মহাসড়কের পটিয়া বাইপাস সড়কের ভাটিখাইন রাস্তার মাথা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পটিয়া হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস কক্সবাজার যাওয়ার পথে মহাসড়কের পটিয়া বাইপাস সড়ক অতিক্রম করার সময় এক পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে বাসটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে এটি সড়কের আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়।
খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন। এসময় আহতদের উদ্ধার করে ২১ জনকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখানেই বাসের সহকারী সোলেমান (৪৫)কে মৃত ঘোষণা করে। তার বাড়ি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলায়।
চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় খড়ের আগুন থেকে সৃষ্ট ঘন ধোঁয়ায় সড়ক অন্ধকার হয়ে পড়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত এবং আরও ৮ জন আহত হয়েছেন। ১৮ মার্চ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান সড়কের পটিয়ার জলুরদিঘী পাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বাঁশি মোহন দাশ (৫০) লোহাগাড়া উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, রাস্তার পাশে খড়ে আগুন দেওয়ায় সৃষ্ট ধোঁয়ায় পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে পড়ে। এতে দুটি ঈগল পরিবহনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। একই সময়ে মারসা পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।






