ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সমুদ্রে ভাসমান ইরানি তেল কেনার ওপর ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
গত দুই সপ্তাহে এ নিয়ে তৃতীয়বার এ ধরনের সাময়িক ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে রাশিয়ার তেলের ওপর থেকেও একইভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল। মার্কিন অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২০ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিলের মধ্যে জাহাজগুলোতে থাকা ইরানি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির অনুমতি দিয়ে একটি সাধারণ লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই সাময়িক ছাড়ের ফলে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে আসবে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি শক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং ইরানের কারণে তৈরি হওয়া তেলের সরবরাহে সাময়িক চাপ লাঘব হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘সহজ কথায়, আমাদের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা তেহরানের তেল তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করছি।’
তবে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন অনেক বিশ্লেষক। তাদের মতে, এই নীতি ইরানের যুদ্ধ তহবিলে আর্থিক সহায়তা হিসেবে কাজ করতে পারে। ব্ল্যাকস্টোন কমপ্লায়েন্স সার্ভিসেস-এর ডেভিড টানেনবাউম বিবিসিকে বলেন, ‘সহজ কথায় বললে এটি একটি অদ্ভুত সিদ্ধান্ত। আমরা মূলত ইরানকে তেল বিক্রির সুযোগ দিচ্ছি, যে অর্থ তারা যুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে।’
সমালোচনার জবাবে বেসেন্ট শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, এই সাময়িক ও স্বল্পমেয়াদী ছাড়টি অত্যন্ত কঠোরভাবে শুধুমাত্র সেই তেলের ওপর কার্যকর হবে যা ইতোমধ্যে পরিবাহিত অবস্থায় (সমুদ্রে ভাসমান) রয়েছে। নতুন করে তেল কেনা বা উৎপাদনের জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও জানান, এই বিক্রয় থেকে অর্জিত অর্থ হাতে পাওয়া ইরানের জন্য কঠিন হবে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ অব্যাহত থাকবে।






