বাংলাদেশ সরকার স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ নানা সংকটের কারণে নির্ধারিত প্রস্তুতি ব্যাহত হওয়ায় এই আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পোর কাছে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পর্যালোচনার জন্য ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ হওয়ার কথা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক—এই তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করেছে। তবে কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এবং বাণিজ্য ধীরগতির মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
অভ্যন্তরীণভাবে আর্থিক খাতের অনিয়ম, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং রোহিঙ্গা সংকট সরকারি ব্যয়ের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ফলে সামষ্টিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ হ্রাস এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
সরকার আশঙ্কা করছে, নির্ধারিত সময়েই উত্তরণ হলে রপ্তানি খাত, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে শুল্ক সুবিধা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, সংস্কার বাস্তবায়ন এবং উত্তরণ প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা যায়।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সময় বাড়ানোর সম্ভাবনা খুব বেশি নয়। কারণ আন্তর্জাতিকভাবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নির্ধারিত সূচকের ভিত্তিতে নেওয়া হয় এবং বাংলাদেশ এখনো প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করে যাচ্ছে।







